প্রবাসের জীবন শেষে দেশে ফিরেছিলেন নতুন স্বপ্ন নিয়ে। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে মাত্র তিনমাস আগে শুরু করেছিলেন ব্যবসা। নিয়েছিলেন নামী দুটি কোম্পানির বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর ডিলারশিপ। ধীরে ধীরে ব্যবসা গুছিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন তরুণ ব্যবসায়ী ইমরান মিয়া। কিন্তু সেই স্বপ্নের ব্যবসায় রাতের আঁধারে আগুন লেগে মুহূর্তেই সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে। পুড়ে গেছে দোকানে থাকা অধিকাংশ মালামাল। এতে প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ী ইমরান মিয়ার।
শুক্রবার (০৪ আগস্ট) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ইমরান মিয়া।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের ধনকুড়া হেলিপ্যাডসংলগ্ন দোকানে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ইমরান মিয়া উপজেলার নিরাহারগাতী গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাস থেকে দেশে ফিরে ইমরান মিয়া সিদ্ধান্ত নেন এবার দেশেই কিছু করবেন। সেই লক্ষ্যেই প্রায় তিনমাস আগে অলিম্পিক ও হক নামের দুটি কোম্পানির বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর ডিলারশিপ নেন তিনি। ধনকুড়া হেলিপ্যাডসংলগ্ন একটি দোকানকে কেন্দ্র করে শুরু হয় তার ব্যবসায়িক কার্যক্রম। সেখান থেকে হোসেনপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মুদি দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিস্কুটসহ অন্যান্য খাদ্যপণ্য সরবরাহ করতেন তিনি।
নতুন ব্যবসা হওয়ায় দোকানে প্রতিদিনই বাড়ছিল মালামালের পরিমাণ। ব্যবসা ভালোভাবে দাঁড় করিয়ে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কাজ করার পরিকল্পনাও ছিল তার। বৃহস্পতিবার রাতেও প্রতিদিনের মতো ব্যবসার কাজ শেষ করে দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান ইমরান। দোকানের ভেতরে তখনও বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী মজুত ছিল। রাত গভীর হওয়ার পর ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় এক রিকশাচালক দোকানের ভেতর আগুন জ্বলতে দেখতে পান।
বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত ইমরান মিয়াকে খবর দেন। খবর পেয়ে ইমরান ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। পরে হোসেনপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে আগুনের ভয়াবহতায় দোকানে থাকা অধিকাংশ মালামাল পুড়ে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও নতুন করে সাজানো ব্যবসার বড় একটি অংশ মুহূর্তেই ছাই হয়ে যায়।
ব্যবসায়ী ইমরান মিয়া বলেন, ‘দোকানে অলিম্পিক ও হক কোম্পানির প্রায় আট লাখ টাকার মালামাল ছিল। আগুন লাগার পর কিছু মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অধিকাংশই পুড়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাত্র তিনমাস আগে অনেক আশা নিয়ে দেশে ফিরে নতুন করে ব্যবসা শুরু করেছিলাম। ব্যবসাটি ভালোভাবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছিলাম। দোকানে প্রায় আট লাখ টাকার মালামাল ছিল। কিছু মালামাল উদ্ধার করা গেলেও অধিকাংশ পুড়ে গেছে। এতে আমার প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।’
আক্ষেপ করে ইমরান আরও বলেন, ‘প্রবাস থেকে ফিরে দেশে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর অনেক স্বপ্ন ছিল। অনেক আশা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলাম। কিন্তু এত অল্প সময়ের মধ্যেই আগুনে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়লাম। এখন কীভাবে আবার ব্যবসা শুরু করব, সেটাই বুঝতে পারছি না।’
হোসেনপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শামসুল হক বলেন, ‘খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগুনে দোকানে থাকা বিপুল পরিমাণ মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই-বাছাইয়ের পর আরও স্পষ্ট হবে।’
কেকে/ এআই