রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় আমুর অঞ্চলে আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সের (এজিসিসি) কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে মাহিন উদ্দিন নামে আরও এক বাংলাদেশির প্রাণ গেছে।
শুক্রবার (৪ আগস্ট) ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মৃ্ত্যু হয় বলে মস্কোতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন।
মাহিনের বাড়ি নরসিংদীতে। তার মৃত্যু নিয়ে ওই ঘটনায় চার বাংলাদেশির প্রাণ গেল।
বুধবার (২ আগস্ট) চিকিৎসাধীন মাহিনকে দেখতে মস্কোর হাসপাতালে গিয়েছিলেন মিজানুর রহমান। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সেদিনও তিনি (মাহিন) কথা বলেছিলেন। ভিডিওকলে পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল তার।’
গত ২৫ আগস্ট রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের সভোবোদনি শহরের কাছে আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে (এজিসিসি) আগুন লাগে।
পরদিন বিবৃতিতে প্রথমে চীনের ছয় নাগরিকসহ সাত জনের মৃত্যুর খবর দেয় এজিসিসি। পরবর্তী মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জনে দাঁড়ানোর তথ্য টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেয় তারা। সেখানে বলা হয়, ‘মারা যাওয়াদের মধ্যে ১৪ জনই বিদেশি।’
বুধবার দ্য মস্কো টাইমসের খবরে বলা হয়, ‘এজিসিসি রাশিয়ার পেট্রোকেমিক্যাল জায়ান্ট সিবু এবং চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ও গ্যাস কোম্পানি সিনোপেকের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে। প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পটি বিশ্বের অন্যতম বড় পলিমার উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা চলছে। আগামী বছরের শুরুতে চালুর আগে সেখানে শেষ ধাপের পরীক্ষা চলছিল।’
এজিসিসি বলছে, ‘পাইরোলাইসিস ইউনিটের একটি সহায়ক অংশ থেকে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত, পরে তা ছড়িয়ে পড়ে। তবে আগুনে কমপ্লেক্সের মূল যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।’
ঘটনার দুই দিন পর ২৭ আগস্ট এক বাংলাদেশির মৃত্যু এবং আরেকজনের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য দিয়েছিলেন মিজানুর রহমান। পরে ওই দুইজনের পাশাপাশি আব্দুল কুদ্দুস নামে তৃতীয় আরেকজনের মৃত্যু হয়।
২৬ ও ২৭ আগস্ট মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া জাকির হোসেনের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে এবং মো. আলাল হোসেন রাজুর বাড়ি মেহেরপুরের গাংনিতে। আর আব্দুল কুদ্দুসের বাড়ি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হুগলবাড়ীয়ায়।
মিজানুর রহমান বলেন, ‘নিহত জাকির ও রাজুর লাশ ইতোমধ্যে ময়নাতদন্ত শেষে কফিনবন্দির কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কার্গো বিমানের মাধ্যমে লাশ ঢাকায় পরিবারের কাছে পৌঁছবে। অপরদিকে মস্কো হাসপাতালে আব্দুল কুদ্দুস ও মাহিন উদ্দিনের লাশ সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও ৬-৭ দিন লাগতে পারে। তারপর বাংলাদেশে পৌঁছাবে।’
আগুনের ঘটনায় ৩৬ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে চারজন মারা গেছেন। আর গুরুতর অবস্থা নিয়ে একজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বাকিরা বাসায় গেছেন বলে জানিয়েছেন মিজানুর রহমান।
কেকে/এমএ