রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় আমুর অঞ্চলে আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে (এজিসিসি) আগুনে নিহত ১৫ জনের মধ্যে একজন বাংলাদেশি রয়েছেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশের আরও একজন নিখোঁজ ও সাতজন গুরুতর আহত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে।
মস্কোতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মিজানুর রহমান এসব তথ্য জানিয়েছেন।
আগুনে নিহত জাকির হোসেনের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে। নিখোঁজ থাকা বাংলাদেশি কর্মী মো. আলাল হোসেন রাজুর বাড়ি মেহেরপুরের গাংনিতে।
আগুনের এ ঘটনায় রাজু এখনও নিখোঁজ বলে জানান মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘কিছু লাশ বেশি পুড়ে যাওয়ায় এখনও সেগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হইনি। সেগুলোর মধ্যে রাজুর লাশ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের সভোবোদনি শহরের কাছে অবস্থিত আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্স।
বুধবার (২৭ আগস্ট) বিবৃতিতে প্রথমে চীনের ছয় নাগরিকসহ সাত জনের মৃত্যুর খবর দেয় এজিসিসি। পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জনে দাঁড়িয়েছে বলে বৃহস্পতিবার নিজেদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে তথ্য দিয়েছে তারা। সেখানে বলা হয়, ‘মৃতদের ১৪ জনই বিদেশি।’
এজিসিসি বলছে, ‘পাইরোলাইসিস ইউনিটের একটি সহায়ক অংশ থেকে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত; পরে তা ছড়িয়ে পড়ে। তবে আগুনে কমপ্লেক্সের মূল যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।’
আহতদের অবস্থা বর্ণনা করে মিজানুর রহমান বলেন, ‘সাতজন গুরুতর আহত বাংলাদেশি কর্মীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমুর থেকে মস্কোতে অবস্থিত স্পেশালাইজড হাস্পাতালে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে যাদের মধ্যে ছয়জন আইসিইউতে রয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘জাকির হোসেনের মৃতদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়ে দূতাবাস থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। ওই কোম্পানি দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে লাশ পাঠানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।’
মিজানুর রহমান জানান, পরে তার বকেয়া পাওনা এবং ক্ষতিপূরণের বিষয়ে দূতাবাস এলএলসি সিনোপেক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানির সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে। দূতাবাস ইতোমধ্যে মৃতদেহ প্রেরণের জন্য প্রত্যায়ণপত্র এবং আনুষঙ্গিক কাগজপত্র প্রস্তুত করছে।
বলে রাখা ভাল, এজিসিসি রাশিয়ার পেট্রোকেমিক্যাল জায়ান্ট সিবু এবং চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ও গ্যাস কোম্পানি সিনোপেকের যৌথ উদ্যোগে নির্মিতব্য। প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পটি বিশ্বের অন্যতম বড় পলিমার উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা চলছে। আগামী বছরের শুরুতে চালুর আগে সেখানে শেষ ধাপের পরীক্ষা চলছিল।
কেকে/এমএ