গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় প্রেসক্রিপশন ছাড়া হৃদরোগের ওষুধ দিতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে ফার্মেসি ব্যবসায়ীকে প্রায় ছয় ঘণ্টা আটকে রেখে মারধর ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতা ফজলুল হক রোমানের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে লোহার রড দিয়ে মারধর করে দুই উরুতে জখম করা এবং সঙ্গে থাকা ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মো. আতিকুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) শ্রীপুরের মাওনা উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে ফজলুল হক রোমানের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
বিকেল ৩টার দিকে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আতিকুল ইসলামকে সেখান থেকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) শ্রীপুর মডেল থানায় ফজলুল হক রোমানসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পত্র দিয়েছেন আতিকুল ইসলাম। অভিযোগে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
আতিকুল ইসলামের দাবি, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে এক নারী তার ফার্মেসিতে গিয়ে প্রেসক্রিপশন ছাড়া হৃদরোগের ওষুধ চান। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র না থাকায় তিনি ওষুধ দিতে অস্বীকৃতি জানান। বিষয়টি ফজলুল হক রোমানকে জানানো হলে তিনি ক্ষুব্ধ হন। পরে তার ভাতিজা জাহিদের মাধ্যমে ডেকে নিয়ে গিয়ে ওই ঘটনার কারণ জানতে চান এবং একপর্যায়ে মারধর শুরু করেন।
আতিকুল ইসলাম বলেন, “প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ না দেওয়াটাই আমার অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাকে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আটকে রেখে মারধর করা হয়। পরে এখানে ব্যবসায় করতে হলে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে বলে জানানো হয়।”
অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে, আটকে রাখার সময় দফায় দফায় মারধরের পাশাপাশি ব্যবসায়ের মূলধন হিসেবে থাকা ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়।
এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ফজলুল হক রোমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তার নির্দেশের পর অভিযুক্তের ব্যবহৃত কার্যালয়ে তালা দেওয়া এবং সেখানে থাকা কিছু মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এ ব্যাপারে শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, ‘অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এমএ