শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২১ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: নেপালের ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আর কেউ বেঁচে নেই      দুর্নীতিবাজের অস্তিত্ব বাংলাদেশে বরদাস্ত করব না : ডা. শফিকুর রহমান      নতুন স্বৈরাচার হওয়ার পথ বন্ধ করতেই লংমার্চ : নাহিদ ইসলাম      ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শুরু      বৃষ্টির সম্ভাবনায় কাটবে শনিবার      শাপলা চত্বরে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের উদ্বোধন      তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দিল্লির কাছে ‘নতুন তথ্য নেই’      
আন্তর্জাতিক
নেপালের ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আর কেউ বেঁচে নেই
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৭ এএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

নেপালের ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে উদ্ধার অভিযান শেষ করেছে উদ্ধারকারী দল। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধারের পর সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে সেখানে আর কোনো শ্রমিক জীবিত বা মৃত অবস্থায় নেই বলে নিশ্চিত হয়েছেন উদ্ধারকারীরা। ফলে ওই সুড়ঙ্গে আর কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা না থাকায় অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

শুক্রবার নেপালের সশস্ত্র পুলিশবাহিনীর (এপিএফ) সাত সদস্যের একটি বিশেষ দল সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রবেশ করে। দলটির নেতৃত্ব দেন হেড কনস্টেবল পবন বাহাদুর তামাং। উদ্ধার অভিযানে নেপালি সেনাবাহিনীর সদস্যরাও অংশ নেন।

সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে এপিএফ সদস্য অম্বর মাহাত জানান, প্রকল্পটির প্রায় পুরো অংশই কাদা ও মাটির নিচে চাপা পড়েছে। কোথাও কোথাও পাথর জমে আছে। উদ্ধারকারীরা হামাগুড়ি দিয়ে সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট এগিয়ে তল্লাশি চালান। তবে কোথাও শ্রমিকের সন্ধান পাওয়া যায়নি। বানের পানির প্রবল চাপে সুড়ঙ্গের ওপরের স্ল্যাবও ধসে পড়েছে বলে জানান তারা।

গত ২৬ আগস্ট সকালে ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। ওই সময় নেপালের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছিল। এসব প্রকল্পের পাওয়ারহাউস মাটির নিচে সুড়ঙ্গ করে নির্মাণ করা হয়েছিল। আকস্মিক বন্যায় সবগুলো প্রকল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

নেপালের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুধু এসব সুড়ঙ্গেই প্রায় ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। এরপর থেকেই নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ জোরালোভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আসছে।

ন’দিন পর ত্রিশূলীর সুড়ঙ্গ থেকে শুক্রবার সঞ্জয় শাহ ও কবীর মহারাজন নামের দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়। একই সুড়ঙ্গ থেকে আরও একজন শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

দুই শ্রমিককে উদ্ধারের সময় সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে আরও মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে বলে দাবি উঠেছিল। এ কারণে সেখানে তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়। পরে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা সুড়ঙ্গের একেবারে শেষ প্রান্ত পর্যন্ত গিয়ে খোঁজ নেন। কিন্তু সেখানে আর কোনো শ্রমিকের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

উদ্ধারের পর সঞ্জয় শাহ ও কবীর মহারাজনকে চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছে। সঞ্জয় জানান, বন্যার পানি প্রবেশের খবর পেয়ে তিনি অন্য শ্রমিকদের সুড়ঙ্গ থেকে বের করে আনার চেষ্টা করছিলেন। এ কারণেই তাঁর বের হতে দেরি হয়ে যায়। এরপর তিনি সুড়ঙ্গের ভেতর আটকা পড়েন।

সুড়ঙ্গের ভেতরে টানা নয় দিন কাটানোর অভিজ্ঞতা জানিয়ে সঞ্জয় বলেন, “ওই সময় তিনি মন্ত্র জপ ও ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছেন। সেখান থেকে জীবিত বের হতে পারবেন—এমন আশা তার ছিল না।”

এদিকে শুক্রবার পর্যন্ত নেপালে হড়পা বানে ১ হাজার ২৮৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ৫ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।


কেকে/সাশ 



আরও সংবাদ   বিষয়:  নেপালের ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close