খার্ক দ্বীপ থেকে ছয় নটিক্যাল মাইল দূরে পারস্য উপসাগরে ইরানে ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিছে যুক্তরাষ্ট্র।
আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে হামলাটি চালানো হয়।
জানা গেছে, খার্ক দ্বীপের কাছাকাছি পারস্য উপসাগরের দিক থেকে কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ছোট একটি ইরানি তেল ট্যাঙ্কার মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। খার্ক দ্বীপের উপকূলে নোঙর করার স্থানে অন্তত চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ট্যাঙ্কারটিতে আঘাত হানে।
এ হামলার ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। ট্যাঙ্কারটির নাবিকরা জাহাজটি থেকে সরে যাওয়ার সময় হামলাটি চালানো হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কোনো পরিস্থিতিতে হামলার ঘটনাটি ঘটেছে তা তদন্ত করে দেখছে।
খার্ক দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র। যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের রপ্তানিকৃত তেলের ৯০ শতাংশ খার্ক দ্বীপ থেকে সরবরাহ করা হতো। কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশটিতে হামলা চালিয়ে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে ইরানের জ্বালানি বাণিজ্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। এতে দেশটির অর্থনীতির ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
ইরান কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এ হামলার বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি আর মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড তারা আঘাতটি হেনেছে কি না—এমন প্রশ্নে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
গত ৩১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি ভিডিও ক্লিপ পোস্ট করে জানিয়েছিলেন, ইরানের তেল কেন্দ্র খার্ক দ্বীপ ‘চূর্ণবিচূর্ণ করে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।’
কিন্তু এরপর খার্কে এ ধরনের কোনো হামলা হয়েছে—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
খার্কে কোনো হামলা চালানো হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে ওই সময় ইরানি নেতারা হুঁশিয়ার করেছিলেন।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান বিশ্বের তেল-গ্যাস সরবরাহের গুরুত্বপূণ জলপথ হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ করে রেখেছে। এরপর থেকে সমুদ্রপথে ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করতে দেশটির বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী।
সূত্র : তাসনিম, রয়টার্স
কেকে/এমএ