মাছ শিকার অনেকের কাছে শখের। এমন শখের বসে মাছ শিকারীরা ছুটে চলেন দূর দূরান্তে। এমন নেশায় একদল শিকারি ছুটে এসেছিলেন নীলফামারীর নীলসাগরে মাছ শিকার করতে। নিয়মানুয়ী প্রত্যেকে মাছ শিকারি টিকেট কেটেছেন ১০ হাজার টাকায়। কিন্তু দিনভর অনেক চেষ্টার পরও মাছ না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) মাছ শিকারীদের এমন ক্ষোভের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
তাদের অভিযোগ, মাছ শূন্য নীলসাগরে ১০ হাজার টাকা টিকেটের মূল্য নিয়ে প্রতারণা করেছে জেলা প্রশাসন।
মাছ না পেয়ে ক্ষুব্ধ শিকারিদের অসন্তোষের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বেশ আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকে এটির দায় চাপান জেলা প্রশাসনের ওপর। অনেকে অভিযোগ করেন মাছ শুন্য করে শিকারীদের সঙ্গে এমন প্রতারণা লজ্জাজনক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মাছ শিকারির অভিযোগ, নীলসাগরের মতো বিশাল দিঘীটি বর্তমানে মাছশূন্য। এ মাছ শূন্য দিঘীতে জেলা প্রশাসনের আহ্বানে গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকাল থেকেই স্থানীয় ও বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ৯০ জন মাছ শিকারিদের কাছে ১০ হাজার টাকা করে ফি নিয়ে শিকারের অনুমতি দেয়। এসব শিকারি বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত অনেক চেষ্টা করে বরশীর টোপে মাছের সাড়া না পেয় হতাশ হয়ে পড়েন।
শিকারীদের অভিযোগ, প্রতিযোগীতার আগেই দিঘির মাছ ধরে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। মাছশূন্য পুকুরে প্রতিযোগিতা সাজিয়ে মোটা অঙ্কের টিকিট বিক্রি করে প্রশাসন তাদের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা করেছে। এতে আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় টিকিটের ১০ হাজার টাকার পাশাপাশি আরও ১০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণের দাবি জানান তারা।
মাছ শিকারীদের অভিযোগ অস্বীকার করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘শুক্রবার দিনভর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে হয়তো মাছ টোপ গিলোনি। তা ছাড়া একদমই যে কেউ মাছ শিকার করতে পারেননি তা নয়, অনেকেই কিছু মাছ পেয়েছেন।’
কেকে/এআই