সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ঢালাওভাবে বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত ফরেস্টার, ডেপুটি রেঞ্জার ও রেঞ্জারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কথিত নিউজ পোর্টালে এসব ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচারের পর সেগুলো ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ডেপুটি রেঞ্জারদের রেঞ্জার পদে পদোন্নতি হওয়ার কার্যক্রম ঘিরে পদোন্নতি বাধাগ্রস্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে একাধিক চক্র। চক্রটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত ডেপুটি রেঞ্জারদের টার্গেট করে এসব অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। টার্গেট করে কর্মকর্তাদের ছবি ব্যবহার করে শুধু ফটোকার্ড তৈরি করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। অথচ এতে নেই বিস্তারিত সংবাদ এবং অভিযুক্তের বক্তব্য।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের হাটহাজারী রেঞ্জের সাবেক রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি রাজস্বের টাকা আত্নসাৎসহ বিভিন্ন অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। অথচ এসব অভিযোগের কোনো তথ্য ও প্রমাণ অভিযোগের সাথে দেয়া হচ্ছে না। এতে যেমন বিব্রত অভিযুক্ত কর্মকর্তা, তেমনি বিব্রত অভিযোগ তদন্তের সাথে সম্পৃক্ত কর্মকর্তারা।
অথচ মো. সাইফুল ইসলামের দাবি, কেউ এসব অভিযোগের প্রমাণ দিতে পারলে তিনি স্বেচ্ছায় সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়ে যেকোন ধরনের সাজা মেনে নিতে প্রস্তুত আছেন।
ভুক্তভোগী মো. সাইফুল ইসলাম চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের শহর রেঞ্জ কর্মকর্তা পদে বর্তমানে কর্মরত।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, তার বিরুদ্ধে সরকারি রাজস্ব আত্মসাৎ ও রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ার অভিযোগ ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। অথচ এই অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, মনগড়া ও বানোয়াট। রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় এবং রাজস্ব রশিদ ছাড়া রাজস্ব আদায়ের সুযোগ নেই। তিনি হাটহাজারীতে রেঞ্জ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় রশিদবিহীন কোনো রাজস্ব আদায় করেননি, সেই সুযোগ নেই।
কোনো লট ক্রেতার কাছ থেকেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে বা তার কার্যালয়ের মাধ্যমে নগদ অর্থ গ্রহণ করেননি। খাড়া গাছের নিলাম ও রাজস্ব আদায়ের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই অনুযায়ী হাটহাজারী রেঞ্জ সরাসরি লট ক্রেতাদের কাছ থেকে খাড়া গাছের নিলামের রাজস্ব আদায় করে না। সংশ্লিষ্ট রাজস্ব আদায়ের কাজ শহর রেঞ্জের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে। যেখানে নগদ অর্থ গ্রহণের সুযোগ নেই সেখানে রাজস্ব আত্নসাতের অভিযোগের ভিত্তি নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব ভুয়া খবর ছড়িয়ে দেয়া হলেও যেই লট ক্রেতা টাকা দিয়েছেন তার বক্তব্য নেই। নেই বাগানের উপকারভোগীর বক্তব্য।
তিনি আরও বলেন, ‘লট ক্রেতাদের কাছে বকেয়া রাজস্ব আদায়ের জন্য নিয়ম অনুযায়ী নোটিস দেওয়া হয়। নোটিস পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট লট ক্রেতারা বকেয়া রাজস্ব পরিশোধ করে থাকেন। বিভিন্ন সময় লট ক্রেতারা টাকা পরিশোধ করবেন বলে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন। বকেয়া রাজস্ব থাকা মানে রেঞ্জ কর্মকর্তা সেই টাকা আত্নসাৎ করেছেন তা নয়। বকেয়া আদায়ের জন্য যখন নিয়ম অনুযায়ী নোটিস দেওয়া হয়েছে এবং নোটিসপ্রাপ্তরা পরিশোধের অঙ্গীকার করেছেন, তখন সেটিকে রাজস্ব আত্মসাৎ হিসেবে প্রচার করা গুজব ছাড়া কিছুই নয়।’
‘কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, সরকারি হিসাব, রাজস্ব রশিদ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি। কিন্তু এসব যাচাই ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা খবর প্রচার করা হচ্ছে।’
কেকে/এমএ