রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২২ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর      নদীদখল ও দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর      গোপালগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস খাদে, নিহত ৩      জ্বালানি সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ      কিছু রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তির মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে : প্রধানমন্ত্রী      বাসায় গ্যাস-বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে এমন কার্ড চাইলেন আসিফ মাহমুদ      নিউইয়র্ক সফরে ট্রাম্প-তারেক রহমানের বৈঠকের সম্ভাবনা      
অর্থনীতি
ইইউর ৬১ বাণিজ্য বাধার ৪৮টির সমাধান হয়েছে : বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তাদির
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২২ পিএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) চিহ্নিত ৬১টি শুল্কবহির্ভূত বাণিজ্য বাধার মধ্যে ৪৮টিরই সমাধান করেছে বাংলাদেশ। অবশিষ্ট বাণিজ্য বাধাগুলোও দ্রুত নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি বাজার ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতিমূলক আলোচনা শুরুর পথে দুই পক্ষ।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এসব তথ্য জানান। 

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউর রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলার, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর গত মার্চ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার বিষয় সরকারের কাছে তুলে ধরে। এরপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে এসব বাধা দূর করার কার্যক্রম শুরু হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যেই ৪৮টি বাধার সমাধান করা সম্ভব হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অবশিষ্ট বাণিজ্য বাধাগুলোও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো পর্যালোচনা করছে। এগুলো দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ব্যবসায় ও বিনিয়োগের পরিবেশ আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ 

মন্ত্রী বলেন, ‘যেসব বাণিজ্য বাধার সমাধান বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বাণিজ্য সহজীকরণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাধা দূর করা হয়েছে। এর মধ্যে শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন লজিস্টিক কোম্পানির লাইসেন্স নবায়ন সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন অন্যতম।’

‘এ ছাড়া বাণিজ্যিক স্যাম্পল আমদানির বার্ষিক সীমা বাড়ানো হয়েছে। আগে এ ধরনের স্যাম্পল আমদানির বার্ষিক সীমা ছিল ১০ হাজার মার্কিন ডলার। সেটি বাড়িয়ে ২০ হাজার মার্কিন ডলারে উন্নীত করা হয়েছে। এর ফলে ইউরোপীয় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাংলাদেশে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা ও পণ্যের নমুনা আমদানির ক্ষেত্রে আগের তুলনায় সুবিধা তৈরি হবে।’

আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘রপ্তানি পণ্যের ট্রেসিবিলিটি নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত স্ক্যানিং স্মার্ট কার্ডের শুল্কায়ন জটিলতাও দূর করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব কার্ডের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

এফটিএ নিয়ে চলতি সপ্তাহেই কারিগরি আলোচনা :

ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্যোগে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। 

ব্রিফিংয়ে মাইকেল মিলার বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়ার পর ইউরোপীয় কমিশন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।’

ইইউর সদস্য দেশগুলোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন হলে চলতি সপ্তাহ থেকেই এ বিষয়ে দুই পক্ষের যৌথ কারিগরি আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানান তিনি।

মাইকেল মিলার বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করতে হলে একটি স্বচ্ছ, স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা বজায় রাখা হলে উভয় পক্ষই লাভবান হবে।’

তিনি বলেন, ‘ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের উপস্থিতি ইতোমধ্যে শক্তিশালী। ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্ককে আরও গভীর করতে হলে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করার পাশাপাশি ব্যবসায়ের পরিবেশ আরও উন্নত করতে হবে।’

এয়ারবাস ক্রয় নিয়েও আশাবাদ :

বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে বিমান চলাচল এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে এয়ারবাস ক্রয় সংক্রান্ত আলোচনাও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মাইকেল মিলার।

তার মতে, বিমান চলাচলসহ পরিবহন অবকাঠামোর উন্নয়ন দুই অঞ্চলের মধ্যে মানুষের চলাচল, ব্যবসায়-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে এয়ারবাস ক্রয়ের বিষয়টি দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগকে ইউরোপীয় পক্ষ ইতিবাচকভাবে দেখছে।

এলডিসি উত্তরণে ইইউর সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ :

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েও ব্রিফিংয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি কমিটি (সিডিপি) এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইসিওএসওসি) সুপারিশ ইতিবাচকভাবে এসেছে।’

আগামী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের শক্তিশালী সমর্থন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুবিধার ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই উত্তরণ-পরবর্তী বাংলাদেশ যাতে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে পারে, সে জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমদানি :

যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানির বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সবসময় জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা এবং জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে আমদানি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।’

তিনি বলেন, ‘জ্বালানি, বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং খাদ্যশস্য আমদানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন উৎসের মূল্য, পণ্যের গুণগত মান এবং সম্ভাব্য অপচয়ের হার বিশ্লেষণ করা হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকারি ক্রয় কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের বাণিজ্যনীতি কোনো নির্দিষ্ট দেশের প্রভাব দ্বারা পরিচালিত নয়। দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং জনগণের কল্যাণই আমদানি ও বাণিজ্যসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি।’

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  ইউরোপীয় ইউনিয়ন   বাণিজ্য বাধা   মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি   বাংলাদেশ-ইইউ বাণিজ্য  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

অর্থনীতি- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close