ফিলিপাইনের পশ্চিমাঞ্চলীয় পালাওয়ান দ্বীপের কাছে যাত্রীবাহী একটি ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে আগুন লাগার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৮০ জনের বেশি যাত্রী। বৃহস্পতিবারও (১০ সেপ্টেম্বর) নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড (পিসিজি) জানিয়েছে, নিখোঁজদের উদ্ধারে একাধিক নৌযান ও অন্যান্য উদ্ধার সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে। সাগরের স্রোতে ভেসে যাওয়া ব্যক্তিদের সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত করতে বিশেষ ড্রিফট-মডেলিং প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে।
ফেরিটির যাত্রী তালিকা অনুযায়ী, এতে ১১৭ জন যাত্রী ও ১৭ জন ক্রু ছিলেন। এখন পর্যন্ত ৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে দুইজন চিলির নাগরিক রয়েছেন। উদ্ধার, মৃত্যু ও নিখোঁজের সংখ্যা চলমান অভিযানের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র কমোডোর নোয়েমি কায়াবায়াব জানান, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ফেরিটির ভেতরে এখনো উদ্ধারকারীরা প্রবেশ করতে পারেননি। প্রচণ্ড ধোঁয়া, তীব্র তাপ এবং বিস্ফোরণের আশঙ্কায় অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। আগুনের কয়েক ঘণ্টা পরও ফেরিটি থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।
ফেরিটি ম্যানিলার বেসেকো এলাকা থেকে পালাওয়ানের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র করোনের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। আগুন লাগার পর সাগরের স্রোত ও বাতাসের কারণে ফেরিটি মূল অবস্থান থেকে আরও দূরে সরে গেছে। ফলে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীদের আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আকাশপথেও উদ্ধার অভিযানে সহায়তা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড। তবে ফেরিটিতে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
৭ হাজার ৬০০টির বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ফিলিপাইনে প্রদেশগুলোর মধ্যে যাতায়াতে ফেরি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনব্যবস্থা। তবে দেশটির সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন রয়েছে। অতীতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, বৈরী আবহাওয়া এবং নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করার কারণে বেশ কয়েকটি ভয়াবহ ফেরি দুর্ঘটনা ঘটেছে।
সূত্র: রয়টার্স
কেকে/সাশ