রিয়ার এডমিরাল মো. মঈনুল হাসান বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
মঈনুল হাসান পূর্বতন মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মো. জিয়াউল হকের স্থলাভিষিক্ত হন।
এ উপলক্ষ্যে কোস্ট গার্ডের সদর দপ্তরে দায়িত্বভার হস্তান্তর ও গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় এবং নবনিযুক্ত মহাপরিচালক দায়িত্ব হস্তান্তর/গ্রহণ বইতে স্বাক্ষরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
মঈনুল হাসান ১৯৮৯ সালের ১ জুলাই বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি নৌবাহিনীর এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি দেশ-বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ ও উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ মিরপুর; ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ মিরপুর ও ভারতের ওয়েলিংটনস্থ ডিফেন্স সার্ভিসেস স্টাফ কলেজের কৃতি গ্র্যাজুয়েট। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল ওয়ার কলেজ রোড আইল্যান্ড থেকে নেভাল কমান্ড কলেজ কোর্স (এনসিসি-২০১৭) সম্পন্ন করেন।
মঈনুল হাসান একাডেমিক যোগ্যতার মধ্যে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ থেকে ডিফেন্স স্টাডিজে এমএসসি এবং ভারতের তামিলনাড়ু ইউনিভার্সিটি থেকে স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে এমএসসি ডিগ্রি উল্লেখযোগ্য। তিনি সাভারস্থ বাংলাদেশ পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ট্রেনিং সেন্টার থেকেও সিনিয়র স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেছেন এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে (বিইউপি) পিএইচডি করছেন।
দীর্ঘদিনের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে রিয়ার মঈনুল হাসান নৌবাহিনীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও নেতৃত্বমূলক দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সাথে পালন করেছেন। গৌরবময় সামরিক জীবনে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল এবং কমান্ডার বাংলাদেশ নেভাল ফ্লিট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নেভি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের প্রথম কমান্ড্যান্ট এবং কমোডর নেভাল এভিয়েশন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
দক্ষ নেভিগেটর হিসেবে মঈনুল হাসানের কর্মজীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সমুদ্রগামী দায়িত্ব ও নেভিগেশন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি একটি করভেট, দুটি অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল, তিনটি মিডিয়াম ও স্মল ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট এবং একটি মিসাইল বোটের অধিনায়কত্ব করেছেন। পাশাপাশি কমান্ডিং অফিসার, ফ্লাইং উইং হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নেভাল এভিয়েশন উইংয়ের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি নেভিগেশন স্কুলের প্রশিক্ষক এবং ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের নেভাল উইংয়ে ডাইরেক্টিং স্টাফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
নৌ সদর দপ্তরে মঈনুল হাসান পরিচালক নৌ পরিকল্পনা; পরিচালক নৌ এভিয়েশন এবং নেভাল সেক্রেটারি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ স্টাফ দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের উপমহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তিনি ২০০৭-২০০৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ইন আইভরি কোস্টে সামরিক পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, আমান, আইএমডিইএক্স, ডব্লিউপিএনএস, অ্যারো ইন্ডিয়া, আইওএনএস, এফেস তুরস্ক এবং ইউরোনাভাল ফ্রান্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সামরিক মহড়া, সম্মেলন ও সেমিনারে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
পেশাগত দায়িত্বে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মঈনুল হাসান নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ শান্তিকালীন পদক ‘নৌবাহিনী পদক’, ‘বিশিষ্ট সেবা পদক’ এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক’ অর্জন করেন।
নবনিযুক্ত মহাপরিচালকের সুদক্ষ নেতৃত্বে কোস্ট গার্ডের পেশাগত সক্ষমতা আরও সুদৃঢ়, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার পাশাপাশি দেশের সমুদ্রসীমা, উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বাহিনীর কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে প্রত্যাশা করা যায়।
কেকে/এমএ