শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: লালবাগে পাঁচতলা ভবনের নিচে মাটি খুঁড়ে মিলল ব্যবসায়ীর লাশ      কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট আবার খুলে দেওয়া হলো      চার ক্যাচের খেসারত, ভারতের কাছে হেরে ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের      বিএনপির হাতে শুরু বিএনপিতেই বিলুপ্তি      লংমার্চে গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হলে আমরাই আগে করতাম : প্রধানমন্ত্রী      হাম ও ডেঙ্গুতে একদিনে ১৩ জনের মৃত্যু      ডেঙ্গুতে আরও ছয়জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৪৯২      
দেশজুড়ে
দুমকিতে পায়রার ভাঙনে ভিটেহারা ৩০ পরিবার
দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৩ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পায়রা নদীর তীরবর্তী বাহেরচর গ্রামে বছরের পর বছর ধরে চলছে নদীভাঙন। অব্যাহত ভাঙনে শত শত পরিবার হারিয়েছে বসতভিটা ও পৈতৃক সম্পত্তি। সর্বশেষ ভাঙনে অন্তত ৩০টি পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছে রাস্তার পাশে। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও তা ঠেকাতে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো সরকারি উদ্যোগ না থাকায় চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে গ্রামবাসীর।

বিদ্যুৎ ও আবাসন সুবিধা না থাকায় ভাঙনকবলিত পরিবারের শিশুদের লেখাপড়াও ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত নদীভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে পুরো বাহেরচর এলাকা।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা পায়রা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে। দীর্ঘদিনের ভাঙনে এরই মধ্যে শত শত ঘরবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। কোনো কোনো পরিবারকে ৮ থেকে ১০ বার পর্যন্ত বসতঘর সরাতে হয়েছে। সর্বশেষ ভাঙনে অন্তত ৩০টি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। ভিটেমাটি হারিয়ে তারা রাস্তার পাশে কিংবা অন্যের জায়গায় আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর ধরে বাহেরচর এলাকায় ভাঙন চলছে। পায়রার অব্যাহত ভাঙনে বসতভিটা, জমিজমা এমনকি বাপ-দাদার কবরও নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। শেষ সম্বলটুকুও হারানোর আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। কয়েক বছর আগে সরকারের পক্ষ থেকে অল্প কিছু সহায়তা মিললেও দীর্ঘদিন ধরে ভাঙনকবলিত এই জনপদের মানুষের জন্য কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

ভাঙনের মুখে রয়েছে ৩২ নম্বর আংগারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার, সিকদার বাড়ি জামে মসজিদ ও মোল্লা বাড়ি। ভাঙন অব্যাহত থাকলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সাইক্লোন শেল্টারটিও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সাইক্লোন শেল্টারটি হারিয়ে গেলে দুর্যোগের সময় আশ্রয়ের জন্য তাদের আর কোনো নিরাপদ স্থান থাকবে না।

সরেজমিনে কথা হয় ভাঙনকবলিত নিটুলী রানী (৪৬)’-এর সঙ্গে। তিনি জানান, এ পর্যন্ত সাতবার ভিটেমাটি হারিয়েছেন। সর্বশেষ আশ্রয়টুকুও নদীগর্ভে চলে যাওয়ার পর সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশে একটি ভাঙা ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন। এখন তার আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।

আক্ষেপ করে জাকির খান (৫০) বলেন, “কত মানুষ আইলো, কত কথা কইলাম, কাম তো কিছুই হইলো না। আমনেগো লগে কথা কইয়া হইবো কী? কেউ তো আমাগো দিকে চাইলো না।”

রিপন মাল (৩৭) বলেন, “বাপ-দাদার আমল থেকেই এই গ্রাম ভাঙছে। তার বয়সে পাঁচ-ছয়বার বসতঘর পরিবর্তন করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বাজারে বাসা ভাড়া করে থাকতে হচ্ছে তাকে।”

আংগারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন সিকদার বলেন, “এ পর্যন্ত আমাদের সাড়ে তিনশ একর জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। ১৯৭৭-৭৮ সালে নদীর অপরপ্রান্তে বাকেরগঞ্জের সঙ্গে নতুন চরে ৬০টি পরিবারের জন্য ৯০ একর জমি কার্ডের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাকেরগঞ্জের লোকজন জবরদখল করে রাখায় আমাদের কোনো পরিবারই জমি পায়নি।”

ভুক্তভোগী বাদল চৌকিদার (৪৮) বলেন, “বারবার নদীভাঙনে তাদের সহায়-সম্বল বলতে কিছুই অবশিষ্ট নেই।” বাধ্য হয়ে রাস্তার ওপর বসবাস করতে হচ্ছে। দ্রুত তাদের পুনর্বাসনের দাবি জানান তিনি।

আংগারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহীন গাজী বলেন, পায়রার অব্যাহত ভাঙনে তার নির্বাচনী ওয়ার্ডটি বিলুপ্তির পথে। ভাঙন রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

আংগারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জিল্লুর রহমান বাহেরচর গ্রামের অস্তিত্ব রক্ষা এবং ভাঙনকবলিত মানুষের সহায়তায় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা কামনা করেন।

দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপজেলা পরিষদ থেকে ত্রাণসহায়তা প্রদান এবং ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও নদীশাসনের ব্যবস্থা না করলে একের পর এক বসতভিটা হারিয়ে একসময় মানচিত্র থেকেই মুছে যেতে পারে পুরো বাহেরচর এলাকা।


কেকে/সাশ 



আরও সংবাদ   বিষয়:  দুমকি   নদী ভাঙন   
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close