স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং ডেঙ্গু সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি মীর শাহে আলম বলেছেন, ‘যেকোনো মূল্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে। কেবল নির্দিষ্ট সময়ের অভিযানে সীমাবদ্ধ না থেকে বছরজুড়ে এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে হবে।’
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক ও রাপা প্লাজা এলাকায় পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে, শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে দেশব্যাপী তিন মাসব্যাপী এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পরপরই প্রতিমন্ত্রী ও ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম মাঠপর্যায়ে চলমান পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজননস্থল ও সার্বিক পরিবেশ পরিদর্শন করেন।
এ সময় তারা সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে একটি ধারাবাহিক সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিক, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।
সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শুরু হওয়া এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য এডিস মশার প্রজননস্থল পুরোপুরি ধ্বংস করা এবং জনসচেতনতা তৈরি করা।
তিনি জানান, নগরীর পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার সক্ষমতা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংখ্যা বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্মাণাধীন ভবনসহ যেকোনো স্থানে পানি জমে থাকলে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অবহেলা পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
তবে শাস্তির চেয়ে নাগরিক সচেতনতার ওপর বেশি গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী।
ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়ে বলেন, ‘নিজের ও পরিবারের সুরক্ষার স্বার্থেই সবাইকে নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে।’
পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুমুক্ত শহর গঠনে তিন মাসব্যাপী এই বিশেষ অভিযানে সবাইকে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/ এমএস