জ্বর হলে গোসল করা যাবে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন মত। কেউ মনে করেন, জ্বরের সময় গোসল করলে জ্বর আরও বেড়ে যেতে পারে। আবার অনেকে শরীরের তাপমাত্রা কমাতে ঠান্ডা পানিতে গোসলের পরামর্শ দেন। চিকিৎসকদের মতে, দুইটি ধারণার কোনোটিই পুরোপুরি সঠিক নয়।
ভারতের ফরিদাবাদের অমৃতা হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের প্রধান ও জ্যেষ্ঠ পরামর্শক চিকিৎসক ডা. সঞ্জয় রায়নার মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে জ্বরের সময় গোসল করা নিরাপদ। তবে পানির তাপমাত্রা ও রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর বিষয়টি নির্ভর করে। জ্বরের সময় অল্প সময়ের জন্য কুসুম গরম বা হালকা গরম পানিতে গোসল করলে শরীরের ঘাম ও অস্বস্তি দূর হতে পারে। এতে শরীর পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি স্বাভাবিকভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তবে গোসল জ্বর সারানোর চিকিৎসা নয়; মূল উদ্দেশ্য হলো রোগীকে আরাম দেওয়া।
ঠান্ডা পানিতে গোসল নয় :
শরীর ঠান্ডা করতে বেশি ঠান্ডা পানিতে গোসল করা ঠিক নয়। সঞ্জয় রায়না বলেন, ‘অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি শরীরে কাঁপুনি সৃষ্টি করতে পারে। কাঁপুনির সময় পেশি তাপ উৎপন্ন করে, ফলে শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা কমার পরিবর্তে আরও বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে কাঁপুনি থাকলে ঠান্ডা পানিতে গোসল অস্বস্তি বাড়াতে পারে।’
এড়িয়ে চলুন অতিরিক্ত গরম পানি :
জ্বরের সময় খুব গরম পানিতে গোসল করাও উচিত নয়। এতে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে পানি আরও কমে যেতে পারে, মাথা ঘোরা বাড়তে পারে এবং শরীরের তাপমাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই কুসুম গরম পানি সবচেয়ে ভালো বিকল্প।
জ্বরের সময় যা বেশি গুরুত্বপূর্ণ :
জ্বর নিজে কোনো রোগ নয়; এটি সাধারণত শরীরে সংক্রমণ বা অন্য কোনো সমস্যার লক্ষণ। তাই শুধু শরীরের তাপমাত্রা কমানোর দিকে মনোযোগ না দিয়ে পর্যাপ্ত পানি পান, বিশ্রাম, সহনীয় হালকা ও পুষ্টিকর খাবার এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জ্বর কমানোর ওষুধ গ্রহণ জরুরি। পাশাপাশি জ্বরের মূল কারণ শনাক্ত করে চিকিৎসা করাও গুরুত্বপূর্ণ।
কখন গোসল না করাই ভালো :
রোগী যদি খুব দুর্বল, মাথা ঘোরার কারণে দাঁড়াতে না পারেন, অজ্ঞান হওয়ার মতো অনুভূতি হয়, বিভ্রান্ত বা অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব থাকে, নিরাপদে দাঁড়াতে না পারেন কিংবা গুরুতর অসুস্থতার সঙ্গে খুব বেশি জ্বর থাকে; তাহলে গোসল না করিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
শুধু জ্বর হয়েছে বলে গোসল বন্ধ রাখার প্রয়োজন নেই। স্বল্প সময়ের জন্য কুসুম গরম পানিতে গোসল সাধারণত নিরাপদ এবং এতে অস্বস্তি কমতে পারে। তবে খুব ঠান্ডা বা খুব গরম পানি এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান ও বিশ্রাম নেওয়া এবং জ্বরের মূল কারণের চিকিৎসাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র : এনডিটিভি
কেকে/এমএ