কিশোরগঞ্জে দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরও ৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২১ জন। তবে এ সময়ে ডেঙ্গুতে নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় মোট ৯৪০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮৪০ জন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ১০০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৩ জন, ২৫০ শয্যা কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ৭ জন, বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন, ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৯ জন, করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, কুলিয়ারচরে ৪ জন, তাড়াইলে ৬ জন, পাকুন্দিয়ায় ৪ জন, নিকলীতে ৩ জন, হোসেনপুরে ৭ জন, ইটনায় ৩ জন, জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ জন এবং প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এক দিনে ৪৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার ঘটনায় জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি চিন্তায় পড়েছেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনরা। অনেক রোগী জ্বর, শরীরব্যথা ও দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে এসে পরীক্ষার পর ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগী আয়েশা আক্তার বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে জ্বর ও শরীরব্যথা ছিল। প্রথমে সাধারণ জ্বর মনে করে বাড়িতেই চিকিৎসা নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। পরে জ্বর না কমায় হাসপাতালে এসে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এখন চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিচ্ছি।’
লাদেন নামের আরেক রোগী বলেন, ‘ডেঙ্গু হয়েছে জানার পর ভয় পেয়েছিলাম। হাসপাতালে আসার পর চিকিৎসক ও নার্সরা নিয়মিত দেখাশোনা করছেন। তবে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে সবাইকে আরও সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে বাড়ির আশপাশে যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।’
রোগীর স্বজন আবদুল মান্নান বলেন, ‘রোগীকে নিয়ে হাসপাতালে আসার পর জানতে পারি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। একসঙ্গে অনেক রোগী ভর্তি থাকায় স্বজনদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। তবে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে হাসপাতালের পাশাপাশি এলাকায় মশা নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা দরকার।’
জেলা শহরের স্থানীয় বাসিন্দা আতাউল গনি বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে থাকতে দেখা যায়। কোথাও পরিত্যক্ত পাত্রে, কোথাও নির্মাণাধীন ভবনের আশপাশে আবার কোথাও ড্রেন ও নালা-নর্দমায় পানি জমে থাকে। এ সব জায়গায় নিয়মিত নজরদারি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা গেলে এডিস মশার বিস্তার অনেকটাই কমানো সম্ভব।’
চিকিৎসকরা জানান, এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু ছড়ায়। সাধারণত জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির আশপাশে পড়ে থাকা পাত্র, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা কিংবা যেসব স্থানে পানি জমে থাকে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি।
হঠাৎ জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব বা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। জ্বর হলে নিজের ইচ্ছায় ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
কেকে/এআই