রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞার প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ      পশ্চিমবঙ্গকে গ্রেটার বাংলাদেশ বানানোর চেষ্টা চলছে : শুভেন্দু      বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে প্রাণ গেল ৪ জনের      জাভা সাগরে ২৪১ যাত্রী নিয়ে নিখোঁজ যাত্রীবাহী জাহাজ      এমবাপ্পে ঝড়ে রায়োকে উড়িয়ে বার্সার ঘাড়ে রিয়াল      ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সাংগঠনিক পুনর্গঠনে জোর বিএনপির      হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, সর্বমোট প্রাণহানি ১০১৯      
দেশজুড়ে
পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করলেন বিচারক মো. তাজুল ইসলাম
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০১ পিএম আপডেট: ১৩.০৯.২০২৬ ১:০৩ পিএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অধীনে সফলভাবে পিএইচডি (ডক্টর অব ফিলোসফি) ডিগ্রি অর্জন করেছেন বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. তাজুল ইসলাম। গত ১৩ আগস্ট ২০২৬ অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে এ ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ড. মো. তাজুল ইসলামের গবেষণার বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশে মান্ধাতা আমলের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা: বিকল্পের সন্ধানে’ এবং ইংরেজিতে ‘Archaic Quandary of Criminal Justice System in Bangladesh: Quest for the Alternative’। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের একজন খ্যাতনামা অধ্যাপকের তত্ত্বাবধানে তিনি এ গবেষণা সম্পন্ন করেন।

ড. তাজুল ইসলামের গবেষণায় বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় প্রচলিত প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো ব্রিটিশ আমলের আইনগুলোকে সময়োপযোগী করে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির বিষয়ে পরিবর্তন ও বিকল্পের সন্ধান করা হয়েছে। বিদ্যমান পুরোনো ফৌজদারি আইনগুলোকে আন্তর্জাতিক বেস্ট প্র্যাকটিসের সঙ্গে সমন্বয় করে সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্ধনের মাধ্যমে দেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার আনার বিষয়টি গবেষণায় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

গবেষণার মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা-ভোসে) দেশি-বিদেশি খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়। তারা তার গবেষণাকর্মের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এক প্রতিক্রিয়ায় এ অর্জনের জন্য পরম করুণাময়, তার শিক্ষক, গবেষক দল ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ড. তাজুল ইসলাম। ভবিষ্যতে গবেষণালব্ধ জ্ঞান দেশের কল্যাণে কাজে লাগাতে চান বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, বর্তমানে তিনি মেহেরপুর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) হিসেবে কর্মরত আছেন। ১৯৮৪ সালের ৩১ জানুয়ারি সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

তিনি ২০০০ সালে এসএসসি এবং ২০০২ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে ২০০৬ সালে এলএলবি (অনার্স) এবং ২০০৭ সালে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি ও ক্রিমিনাল জাস্টিস বিভাগ থেকে মাস্টার্স এবং উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ থেকে বিশেষ ডিগ্রি লাভ করেন।

দেশে প্রথমবারেই তৃতীয় বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়ে সহকারী জজ হিসেবে খুলনা জেলা জজশিপে যোগ দেন তিনি। পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি পেয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ঢাকায় এবং যুগ্ম জেলা জজ হিসেবে ঠাকুরগাঁও, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ জেলা জজশিপে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে কুষ্টিয়া ও যশোর জেলা জজশিপেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইতোপূর্বে তিনি যে আদালতেই দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানেই দক্ষতার সঙ্গে নিজের যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন। মামলাজট কমাতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। যশোরে বদলির আগে তাজুল ইসলাম কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে ২০২২ সালে ৫৫টি হত্যা মামলা নিষ্পত্তি করে তিনি রেকর্ড গড়েন।

২০০৮ সালে সহকারী জজ হিসেবে বিচারিক কর্মজীবন শুরু করা ড. মো. তাজুল ইসলাম মামলাজটমুক্ত বিচার বিভাগের স্বপ্ন দেখেন। বিচারপ্রার্থী জনগণকে দ্রুত ন্যায়বিচার দিয়ে মামলা নিষ্পত্তির উপায় নিয়েও কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। তার প্রত্যাশা, একদিন মামলাজটমুক্ত বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হবে।

তার বিচারিক কাজ দেখেছেন এমন ব্যক্তিদের ভাষ্য, স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে নিজের দায়িত্ব আইন অনুযায়ী সুচারুভাবে পালনে তিনি সদাসচেষ্ট। লেখনির মাধ্যমে মামলাজট নিরসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বপ্নের বীজ তিনি হাজারো আইন শিক্ষার্থীর মনোজগতে বুনে দিচ্ছেন। মানুষকে আইন বিষয়ে সচেতন করার লক্ষ্যেও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

উদার, মানবিক ও অত্যন্ত সরল জীবনযাপনকারী ড. মো. তাজুল ইসলাম তারুণ্য ও বিজ্ঞতার সমন্বয়ে একজন গুণী মানুষ। তাঁর সততা, দেশপ্রেম, পরিশ্রম ও দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির মানসিকতা দেশের ৪৪ লাখ মামলাজটের মধ্যে কিছুটা আশার আলো হিসেবে প্রতিভাত হচ্ছে।

মা-বাবার সাত ছেলে ও এক মেয়ের সংসারে তিনি অষ্টম সন্তান। বাবা অধ্যাপক (অব.) আবুল হোসেন, এবং মা জামিলা বেগম, গৃহিণী। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত। তার স্ত্রী ফেরদৌসী আক্তার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার ইংরেজি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। তিনি দুই কন্যা ও এক পুত্রসন্তানের জনক।

কর্মব্যস্ততার ফাঁকে তিনি বই পড়া, গবেষণা, লেখালেখি ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করেন। ইতোপূর্বে তার লেখা ‘সাংবিধানিক আইনের সহজপাঠ’, শিশু আইনের ওপর ‘Juvenile Delinquency in Bangladesh: Identifying the Causes with Prevention and Rehabilitation’ এবং ‘বাংলাদেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থা: স্বাধীনতার ৫০ বছর’ শিরোনামে তিনটি বই প্রকাশিত হয়েছে। শিশু আইনের ওপর লেখা বইটি বিশ্বের মোট নয়টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

এছাড়াও তিনি আইন গবেষক ও কলামিস্ট হিসেবে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সমসাময়িক বিষয় ও আইন নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করে থাকেন।


কেকে/সাশ 



আরও সংবাদ   বিষয়:  বিচারক মো. তাজুল ইসলাম   পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close