গাজীপুর মহানগরের গাছা এলাকায় দুই মাদরাসাছাত্রকে মারধরের পর উত্তপ্ত লোহার খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে গাছা থানায় পৃথক মামলা করা হয়েছে। পরে মাদরাসার পরিচালকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থানার চরমুহুরী গ্রামের মাওলানা রইছ উদ্দিন আহাম্মদের ছেলে মাওলানা শোয়াইব হোসেন (২৬), ত্রিশাল থানার বরমা গ্রামের মো. ওয়াদুদের ছেলে মাদরাসার শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান (২৬) এবং শেরপুরের শ্রীবরদী থানার ভাইডাঙ্গা গ্রামের মো. শাহিন (১৯)। শোয়াইব হোসেন আল-মাদরাসাতু দারুত তাকওয়া গাজীপুরের পরিচালক। হাবিবুর রহমান ও শাহিন ওই মাদরাসার শিক্ষক।
নির্যাতনের শিকার দুই শিক্ষার্থী হলো—কিশোরগঞ্জের নিকলী থানার সিংপুর গ্রামের নাজমুল মিয়ার ছেলে মো. বায়েজীদ (১৩) এবং শেরপুরের ঝিনাইগাতী থানার বানিয়াপাড়া গ্রামের মো. লাল মিয়ার ছেলে বোরহান আলী (১৩)। তারা দুজনই ওই মাদরাসার শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় বায়েজীদ ও বোরহানের বাবা বাদী হয়ে পৃথক মামলা করেছেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম ঝাঝড়ের সাক্রাউরী এলাকায় আল-মাদরাসাতু দারুত তাকওয়া গাজীপুরে পড়াশোনা করে বায়েজীদ ও বোরহান। গত ১০ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে বায়েজীদ মাদরাসা থেকে বাড়ি ফেরে। এ সময় তার বাবা নাজমুল মিয়া লক্ষ্য করেন, ছেলে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে ও বসতে পারছে না।
কারণ জানতে চাইলে বায়েজীদ নিতম্বে ফোঁড়া হয়েছে বলে জানায়। পরদিন ওই স্থানে ওষুধ লাগাতে গেলে সে আপত্তি করে। পরে জোর করে ওষুধ লাগানোর চেষ্টা করলে নিতম্বে পোড়ার জখমের দাগ দেখতে পান তার বাবা।
পরে বায়েজীদ জানায়, ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে মাদরাসা মাঠে খেলাধুলার সময় এক ছাত্রের পায়জামা অসাবধানতাবশত খুলে যায়। এ ঘটনায় মাদরাসার পরিচালক মাওলানা শোয়াইব হোসেন তাকে উলঙ্গ করে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে লোহার খুন্তি আগুনে গরম করে তার নিতম্বে ছ্যাঁকা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করে বায়েজীদ।
অপর শিক্ষার্থী বোরহানের বাবা লাল মিয়াও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, ওই দিন খেলাধুলার সময় পায়জামা খুলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বোরহানকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। তার মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে হাত-পা দড়ি দিয়ে বেঁধে এবং পোশাক খুলে উলঙ্গ অবস্থায় বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে মাওলানা শোয়াইব উত্তপ্ত লোহার খুন্তি দিয়ে তার তলপেটে ছ্যাঁকা দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। হাবিবুর রহমান ও শাহিনও গরম খুন্তি দিয়ে বোরহানের উরু, নিতম্বসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
লাল মিয়া অভিযোগ করেন, ১১ সেপ্টেম্বর রাতে ছেলেকে দেখতে মাদরাসায় গেলে তাকে জানানো হয়, বোরহানকে অন্য শাখায় পাঠানো হয়েছে। পরে মাদরাসার অন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানতে পারেন, তার ছেলে গুরুতর আহত অবস্থায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। পরে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় ছেলেকে দেখতে পান তিনি।
ওসি গোলাম রব্বানী জানান, বায়েজীদের পরিবারের করা মামলায় মাওলানা শোয়াইবকে শুক্রবার গ্রেপ্তার করে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে বোরহানের বাবা মো. লাল মিয়ার করা মামলায় শনিবার হাবিবুর রহমান ও শাহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তাদের রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আদালতে পাঠানো হবে বলে জানান ওসি।
কেকে/সাশ