কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার আলাউদ্দিন নগরে দুই দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু শিবির শুরু হয়েছে। শিবিরের প্রথম দিনেই ১ হাজার ২০০ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ছানি ও অন্যান্য জটিল চক্ষুরোগে আক্রান্ত ৭০০ রোগীকে অস্ত্রোপচারের জন্য খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ৫০০ রোগীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ওষুধ ও চশমা বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে আলাউদ্দিন নগরের তহিরন নেছা হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ চক্ষু শিবির শুরু হয়।
আগামীকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে।
তহিরন নেছা হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এ চক্ষু শিবিরে প্রধান সহযোগিতা করছে দি ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশন। চিকিৎসাসেবা ও রোগী বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করছে খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল।
আয়োজকেরা জানান, শিবিরে বিভিন্ন ধরনের চক্ষুরোগীর পরীক্ষা, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ছানিপড়া রোগীদের অস্ত্রোপচারের জন্য বাছাই করা হচ্ছে। বাছাইকৃত রোগীদের খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ছানি অস্ত্রোপচার ও চোখে লেন্স প্রতিস্থাপন করা হবে। অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও কালো চশমাও দেওয়া হবে।
বাছাই করা রোগীদের শিবিরের দিনই হাসপাতালের নিজস্ব পরিবহনে খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অস্ত্রোপচার শেষে নির্ধারিত সময়ে তাদের নিজ এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে।
শিবিরে চিকিৎসা নিতে আসা জগন্নাথপুর ইউনিয়নের জহর প্রামাণিক বলেন, ‘আমার চোখে ছানি পড়ায় ঠিকমতো দেখতে পারতাম না। এখানে এসে বিনামূল্যে চিকিৎসা পেয়েছি এবং অপারেশনেরও ব্যবস্থা হয়েছে। বাইরে এ অপারেশন করাতে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হতো। আমি গরিব মানুষ, এত টাকা খরচ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। বিনা খরচে এমন চিকিৎসাসেবা পেয়ে আমি খুবই খুশি।’
চক্ষু রোগী মাজেদা খাতুন বলেন, ‘আমার আপন বলতে কেউ নেই, ছেলে-মেয়েও নেই। চোখের সমস্যার কারণে ঠিকমতো দেখতে পারি না। কিন্তু চোখের অপারেশন করানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য আমার নেই। খরচ বহন করার মতো পাশে দাঁড়ানোরও কেউ নেই। এখানে এসে বিনা খরচে চিকিৎসাসেবা পেয়েছি এবং অপারেশনের ব্যবস্থা হয়েছে। এতে আমি খুবই খুশি। যারা অসহায় মানুষের জন্য এমন সুন্দর উদ্যোগ নিয়েছেন, আল্লাহ তাদের ভালো রাখুন। আমি তাদের জন্য দোয়া করি।’
তহিরন নেছা হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথম দিনেই ১ হাজার ২০০ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭০০ রোগীকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বাছাই শেষে অস্ত্রোপচারের জন্য খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। আরও ৫০০ রোগীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ওষুধ ও চশমা বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের চক্ষুচিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।’
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই দিনের শিবিরে বাছাই করা সব ছানিরোগীর বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হবে।
আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, বিশিষ্ট সমাজসেবক আলাউদ্দিন আহমেদ গত ২২ বছর ধরে এ অঞ্চলের চক্ষুরোগীদের চিকিৎসাসেবা ও অন্ধত্ব নিবারণে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও এ চক্ষু শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে।
শিবিরে আসা রোগীদের সঙ্গে ভোটার পরিচয়পত্রের ফটোকপি অথবা নিজের কিংবা নিকটাত্মীয়ের সচল মুঠোফোন নম্বর রাখার জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।
এ কার্যক্রমে দি ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশন, খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল, হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, গুরুকুল নার্সিং ইনস্টিটিউট, আলো নার্সিং ইনস্টিটিউট, আলাউদ্দিন আহমেদ ডিগ্রি কলেজ ও আলাউদ্দিন আহমেদ শিক্ষাপল্লী পার্ক লিমিটেড সহযোগিতা করছে।
কেকে/এমএ