যাত্রী নামিয়ে ফেরার পথে সামান্য একটা ইউ-টার্ন, আর তাতেই ঘটে গেল ভয়াবহ বিপত্তি। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ধলাই নদী যেন নিমেষেই গিলে খেল এক টমটম চালককে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় কমলগঞ্জ পৌরসভার দক্ষিণ কুমড়াকাপন এলাকায় ঘটে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
নিখোঁজ চালকের নাম প্রিতম এরিক (পিতু) দক্ষিণ বালিগাঁও বটতলা এলাকার টমাস এরিকের পুত্র।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের মতোই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী পৌঁছে দিয়ে ফিরছিলেন প্রিতম। ধলাই নদীর ঝুঁকিপূর্ণ পাড়ে টমটমটি ঘোরানোর সময় সামান্য অসাবধানতায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজা গিয়ে পড়ে নদীর প্রমত্তা স্রোতে। গাড়ি আর চালক—দুটোই চোখের সামনে তলিয়ে যায় ধলাইয়ের অতল গহ্বরে।
বাঁচাও, বাঁচাও— বলে প্রিতমের সেই গগনবিদারী চিৎকার শুনে স্থানীয় কয়েকজন জীবন বাজি রেখে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু ধলাইয়ের স্রোতের কাছে হেরে যান তারা। চোখের পলকেই প্রিতম হারিয়ে যান পানির নিচে।
ফায়ার সার্ভিস খবর পেয়ে চটজলদি ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে নদী থেকে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া টমটমটি টেনে তুলতে পারলেও চালকের দেখা মেলেনি। মৌলভীবাজারে কোনো ডুবুরি দল না থাকা নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কপালেও পড়েছে চিন্তার ভাজ।
কমলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ইউনিট লিডার ফারুক আহমদ সাফ জানিয়ে দেন, আমরা টমটম উদ্ধার করেছি, কিন্তু মৌলভীবাজারে কোনো ডুবুরি দল নেই। সিলেট থেকে টিম ডেকে পাঠানো হয়েছে, তারা এসে পৌঁছালে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার হবে।
কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কমর উদ্দিন জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে তদারকি করছে। তবে সিলেট থেকে ডুবুরি দল পৌঁছাতে যতটা দেরি হচ্ছে, নিখোঁজ প্রিতমের পরিবারের বুকফাটা আর্তনাদ আর স্থানীয়দের ক্ষোভ ততটাই তীব্র হচ্ছে। ধলাইয়ের পাড়ে এখন শুধুই স্বজনদের আহাজারি আর ডুবুরি দলের প্রতীক্ষা।
কেকে/এআই