গাজীপুরে মাদক, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে দৃশ্যমান, সর্বাত্মক ও দৃষ্টান্তমূলক কঠোর ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলনকক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।
সভার শুরুতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী নাজিব হাসান বিগত মাসের আইনশৃঙ্খলার চিত্র তুলে ধরেন। সভায় মাদক নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, গরু চুরি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি, সার মজুত ও বিতরণ ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতার মতো বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়।
সভায় গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার টঙ্গীর বিখ্যাত মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিত মাজার বস্তিতে পরিচালিত দীর্ঘদিনের অভিযানের বর্ণনা দেন। রাজউকের জমিতে গড়ে ওঠা এ অবৈধ বস্তিটি মাদকের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হওয়ায় পুলিশকে নানা বাধা-বিঘ্ন অতিক্রম করে অভিযান চালাতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি সেখানে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান এবং সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকার সমস্যা ও সমাধান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন।
গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলন বলেন, ‘মাদক চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সরকার যদি আরো কঠোর না হয়, তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই সফলতা অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়বে।’
মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি তিনি অপরাধী সাথে জড়িত যেকোনো ব্যক্তি বা গুষ্টির বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর হওয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়ার জন্য প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানুষ অনেক আশা ও প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন।’
সাধারণ মানুষ যেনো বর্তমান পরিস্থিতির সাথে অতীতের তুলনা করে ভালোবোধ করে, সে জন্য প্রশাসন ও রাজনীতিবিদদের ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত। জনগণের প্রতি আমাদের জবাব দিহিতা আছে। আমাদের যতটুকু সক্ষমতা তার সবটুকুই ব্যাবহার করতে হবে।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাবিবুর রশিদ আরো বলেন, ‘বর্তমান সরকারের মূল নীতি হলো আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, প্রধানমন্ত্রী মাদকের ব্যাপারে সর্বোচ্চ কঠোর মনোভাব পোষণ করেন। দেশ থেকে যে কোন মূল্যে মাদক নির্মূলে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ।
প্রতিমন্ত্রী নির্দেশ দেন, টঙ্গীর মাজার বস্তিসহ জেলার প্রতিটি অপরাধপ্রবণ এলাকায় দৃশ্যমান ও কার্যকর অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশকে সবসময় সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহায়তা দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
সড়ক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মহাসড়কে সবার নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। দুর্ঘটনা ঘটলে যেন মামলা দায়ের হয় এবং নিহতদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যেন বিনা হয়রানিতে দ্রুত সরকারি আর্থিক অনুদান ও আইনি সহায়তা পায়, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী সভায় প্রতিটি বিভাগের নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও অর্জনের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
এ জন্য তিনি জেলার সকল বিভাগের নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ করার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ‘আগামী সভায় কার কি দায়িত্ব ছিল, কে কতটুকু পালন করেছেন, কেন পালন করতে পারেননি, তার স্থলে কাকে দিলে দায়িত্ব পালন সম্পন্ন করা যাবে-এসব বিষয় আমরা যাতে বুঝতে পারি, সেভাবে কাজ করুন।’
জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘অতীতে প্রশাসনকে কাজ করার জন্য ওপর থেকে চাপিয়ে দেয়া হতো। বর্তমানে প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিজেরা উদ্যোগী হয়ে কাজ করছে। তাই ইনশাআল্লাহ আগামী সভার আগেই আজকের সভায় গৃহীত সকল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।’
কেকে/এমএ