সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক চাই, তবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে: স্পিকার      ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার বিরুদ্ধে মামলার রায় মঙ্গলবার      ইন্দোনেশিয়ায় জাহাজডুবিতে এখনও নিখোঁজ ১২৯, উদ্ধারে জোর তৎপরতা      আসিফ মাহমুদের নথি দুদকে, যাচাই হবে নিয়োগ-বদলি      আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর      ঢাকা উত্তরে আসিফ ও দক্ষিণে পাটওয়ারীকে এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা      ডেঙ্গুতে আরও ছয়জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৫৬১      
বিনোদন
নারীর আকাশ কোথায়? সিনেমায় নারী নির্যাতনের নির্মম প্রতিচ্ছবি
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৪ পিএম আপডেট: ১৪.০৯.২০২৬ ১:৪০ পিএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

নারী—তুমি উচ্ছ্বল। নারী—তুমি সব্যসাচী। কত উপমাতেই না আমরা নারীকে আবদ্ধ করি। নারীকে উড়তে বলি, স্বপ্ন দেখতে বলি, নিজের মতো করে বাঁচতে বলি। কিন্তু তার আকাশটা কোথায়?

উড়তে বলা হয়, কিন্তু আকাশের ঠিকানাটা দেওয়া হয় না। যেন একটি পাখিকে উড়তে দিতে চায়, অথচ বারান্দার খাঁচাটাই তার জন্য নিরাপদ বলে মনে করে। নারীর ক্ষেত্রেও বাস্তবতা অনেক সময় এমনই। একদিকে তাকে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়, অন্যদিকে নানা সামাজিক, পারিবারিক ও পুরুষতান্ত্রিক সীমারেখায় আটকে রাখার চেষ্টা চলে।

শুধু সীমাবদ্ধতা নয়, নারীরা প্রতিনিয়ত নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এর মধ্যে ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতা সবচেয়ে নির্মম রূপগুলোর একটি। যুদ্ধের ময়দান থেকে শুরু করে ঘরের চার দেয়াল—নারীর শরীর ও অস্তিত্বকে নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ঘটনাও কম নয়। আর এসব অপরাধের বিচার ও জবাবদিহি নিয়েও রয়েছে বড় প্রশ্ন।

সিনেমা শুধু বিনোদন নয়; সিনেমা এক ধরনের দর্শন। সমাজের বাস্তবতা, মানুষের সংকট, নিপীড়ন, বৈষম্য ও প্রতিরোধের গল্পও চলচ্চিত্রে প্রতিফলিত হয়। নারী নির্যাতনের সেই নির্মম বাস্তবতাও উঠে এসেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সিনেমা ও প্রামাণ্যচিত্রে।

নারীর ওপর সহিংসতা ও নিপীড়নের ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতা নিয়ে নির্মিত কয়েকটি সিনেমা ও প্রামাণ্যচিত্র—

কলিং দ্য ঘোস্ট: আ স্টোরি অ্যাবাউট রেপ, ওয়ার অ্যান্ড উইমেন (১৯৯৭)

বসনিয়া যুদ্ধের সময় নারীদের ওপর সংঘটিত যৌন সহিংসতার ভয়াবহতা নিয়ে নির্মিত এই প্রামাণ্যচিত্র। যুদ্ধের মধ্যে বন্দি ও নির্যাতিত নারীদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দেখানো হয়েছে, কীভাবে ধর্ষণকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবেও ব্যবহার করা হয়েছিল।

এটি শুধু কয়েকজন নারীর কষ্টের গল্প নয়; বরং যুদ্ধের রাজনৈতিক সহিংসতার সবচেয়ে ভয়াবহ শিকারদের একজন যে নারী—সেটিই সামনে আনে চলচ্চিত্রটি। নির্যাতনের পরও বেঁচে থাকা, স্মৃতি বহন করা এবং ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করার বিষয়টি এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

দ্য গ্রেটেস্ট সাইলেন্স: রেপ ইন দ্য কঙ্গো (২০০৭)

কঙ্গোর দীর্ঘ সংঘাতের পটভূমিতে নারীদের ওপর যৌন সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে এই প্রামাণ্যচিত্র। যুদ্ধের সময় ধর্ষণ যে শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং একটি জনগোষ্ঠীকে ভেঙে দেওয়ার অস্ত্র হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে—চলচ্চিত্রটি সেই বাস্তবতা সামনে আনে।

সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, নির্যাতনের পর নারীদের সামাজিক কলঙ্ক, একাকিত্ব ও বিচারহীনতার সঙ্গেও লড়তে হয়। ফলে যুদ্ধ শেষ হলেও তাদের যুদ্ধ শেষ হয় না।

লাভ ক্রাইমস অব কাবুল (২০১১)

আফগানিস্তানের সামাজিক ও বিচারব্যবস্থার বাস্তবতায় নারীদের জীবনকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই প্রামাণ্যচিত্র। প্রেম, সম্পর্ক কিংবা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত—এসব বিষয় কীভাবে নারীর জন্য অপরাধে পরিণত হতে পারে, সেটিই চলচ্চিত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

এখানে নারীর ওপর সরাসরি সহিংসতার পাশাপাশি সামাজিক নিয়ন্ত্রণের আরেকটি ভয়ংকর চেহারা দেখা যায়। একজন নারী নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কতটা হারাতে পারেন, তার বাস্তব উদাহরণ পাওয়া যায় এতে।

নো বুরকাস বিহাইন্ড বারস (২০১২)

আফগানিস্তানের একটি নারী কারাগারে বন্দি নারীদের জীবন ও অভিজ্ঞতা নিয়ে নির্মিত এই প্রামাণ্যচিত্র। কারাগারের ভেতরে থাকা নারীদের গল্পের মধ্য দিয়ে সামনে আসে তাদের পারিবারিক জীবন, সামাজিক অবস্থান, অপরাধের অভিযোগ এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নানা চাপ।

চলচ্চিত্রটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও তোলে—একজন নারী অপরাধী হওয়ার আগে তার জীবনে কী ঘটেছিল? তার সিদ্ধান্তের পেছনে কতটা ছিল নিজের ইচ্ছা আর কতটা ছিল সামাজিক ও পারিবারিক চাপ?

দ্য ওয়ার অ্যাগেইনস্ট উইমেন (২০১৩)

যুদ্ধ ও সংঘাতের মধ্যে নারীদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই প্রামাণ্যচিত্র। বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের নারীদের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দেখানো হয়েছে, কীভাবে নারীর শরীরকে যুদ্ধের একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

যুদ্ধের ইতিহাসে নারী নির্যাতনের ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু এই চলচ্চিত্রের গুরুত্ব হলো—এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে নয়, বরং একটি বৃহত্তর বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে যৌন সহিংসতাকে দেখার সুযোগ তৈরি করে।

দ্য কালার পার্পল (১৯৮৫)

অ্যালিস ওয়াকারের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে আফ্রিকান-আমেরিকান এক নারীর দীর্ঘ নির্যাতন ও আত্মপরিচয় খুঁজে পাওয়ার গল্প বলা হয়েছে। পারিবারিক সহিংসতা, যৌন নির্যাতন, বর্ণবৈষম্য ও পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্য—সবকিছুর মধ্যেও মূল চরিত্র সিলি ধীরে ধীরে নিজের কণ্ঠ খুঁজে পায়।

সিনেমাটির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো—নির্যাতিত নারীকে শুধু অসহায় হিসেবে দেখানো হয়নি; বরং তার ভেতরের প্রতিরোধ, আত্মমর্যাদা ও স্বাধীন হয়ে ওঠার যাত্রাটিও দেখানো হয়েছে।

নট উইদাউট মাই ডটার (১৯৯১)

একজন মার্কিন নারীর ইরানে স্বামী ও পরিবারের সঙ্গে থাকার অভিজ্ঞতা এবং মেয়েকে নিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার সংগ্রামকে কেন্দ্র করে নির্মিত চলচ্চিত্রটি। সাংস্কৃতিক পার্থক্য, পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ ও একজন মায়ের নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে লড়াই এখানে মূল বিষয়।

চলচ্চিত্রটি নারীর স্বাধীনতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তবে এর ইরান ও ইসলামি সমাজের উপস্থাপনাকে ঘিরে বিতর্কও রয়েছে। ফলে সিনেমাটিকে শুধু গল্প হিসেবে নয়, এর সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেও দেখা প্রয়োজন।

অজেয়া (২০২৬)

সাম্প্রতিক সময়ের এই চলচ্চিত্রেও নারীর লড়াই, প্রতিকূলতা এবং নিজের অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠার বিষয়টি সামনে আসে। আগের সিনেমাগুলোর মতোই এখানে নারীকে কেবল নির্যাতনের শিকার হিসেবে না দেখে তার প্রতিরোধ ও ঘুরে দাঁড়ানোর দিকটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।


এই সিনেমাগুলোর গল্প আলাদা, সময় আলাদা, দেশও আলাদা। কিন্তু একটি জায়গায় তারা একসূত্রে বাঁধা—নারীর শরীর, স্বাধীনতা ও সিদ্ধান্তের ওপর নিয়ন্ত্রণ।

কোথাও যুদ্ধের বন্দুক নারীর শরীরকে লক্ষ্য বানিয়েছে, কোথাও পরিবার হয়ে উঠেছে নির্যাতনের জায়গা, কোথাও সমাজ তার নিজের জীবন বেছে নেওয়ার অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আবার কোথাও সেই নারীই শেষ পর্যন্ত প্রতিবাদ করেছে, নিজের কণ্ঠ খুঁজে পেয়েছে।

তাই নারীকে শুধু ‘উচ্ছ্বল’ বা ‘সব্যসাচী’ বললেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। তাকে উড়তে বলার আগে তার আকাশটাও তৈরি করতে হয়। নিরাপদ আকাশ, স্বাধীন আকাশ—যেখানে উড়ার অপরাধে কোনো নারীকে আর শাস্তি পেতে হবে না।


কেকে/সাশ 





আরও সংবাদ   বিষয়:  সিনেমা   নারী নির্যাতন  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

বিনোদন- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close