নেত্রকোনার মদন উপজেলার বালালী বাঘমারা উচ্চবিদ্যালয়ের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর মোস্তফা কামাল হিরণের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে থানায় স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে তিনি জিডি করেন।
জানা যায়, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকালে বিদ্যালয়ের স্টোররুমে থাকা কিছু আসবাবপত্র কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ভাঙারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে অফিস সহকারী মোস্তফা কামাল হিরণের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হলে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা বিদ্যালয়ে গিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দেওয়ায় অফিস সহকারী মোস্তফা কামাল হিরণ ক্ষুব্ধ হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি প্রধান শিক্ষককে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং মারধরের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষক। এ সময় বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকরা তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে পরে বাড়িতে পৌঁছে দেন।
এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীমের কাছে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। প্রধান শিক্ষকের দাবি, হুমকির ঘটনার পর থেকে তিনি তিনদিন ধরে বিদ্যালয়ে যেতে পারছেন না। পরে নিরাপত্তার জন্য বৃহস্পতিবার মদন থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি।
প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘অফিস সহকারী মোস্তফা কামাল হিরণ আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। তাই জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে মদন থানায় জিডি করেছি। বিদ্যালয়ের মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়েও থানায় মামলা করা হবে।’
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন করিম বলেন, ‘অফিস সহকারীর হুমকির ঘটনায় প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিদ্যালয়ের মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এর আগেও ২০১৭ সালে অফিস সহকারী মোস্তফা কামাল হিরণের বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি একটি রেজুলেশন করেছিল। পরে তিনি একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা দেন। এতে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক-কর্মচারী, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে বিদ্যালয় পরিপন্থী কোনো আচরণ করলে কর্তৃপক্ষের নেওয়া সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
কেকে/এআই