চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মী মুহাম্মদ আবু আবিদ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্ববর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত খোলা চিঠিতে তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার অনুরোধ জানান।
চিঠিতে নিজের সাম্প্রতিক সড়ক দুর্ঘটনা, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বেড সংকটের অভিজ্ঞতা ও চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ে উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন আবু আবিদ।
তিনি বলেন, ‘রাস্তা সংস্কারের কাজ কিছুটা পিছিয়ে গেলেও তা সহ্য করা সম্ভব, কিন্তু ডেঙ্গুর কারণে একটি প্রাণহানিও মেনে নেওয়া যায় না।’
প্রয়োজনে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ড, পাড়া ও মহল্লায় তরুণদের সম্পৃক্ত করে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
মেয়রকে উদ্দেশ করে আবু আবিদ লেখেন, ‘রাস্তা সংস্কার পরে হলেও, ডেঙ্গু প্রতিরোধে দ্রুত কিছু করুন।’
তিনি আরও লেখেন, ‘প্রথমে আপনাকে ধন্যবাদ জানাই। দেশের বাইরে অবস্থান করেও আমার সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর আপনি নিয়মিত আমার খোঁজখবর নিয়েছেন। আপনার এই মানবিকতা আমি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।’
‘আপনাকে যখন এই খোলা চিঠিটি লিখছি, তখনও আমি হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছি। চট্টগ্রামের অন্যতম ব্যয়বহুল একটি হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনার পর আমাকে ভর্তি হতে হয়েছিল। ভর্তির তৃতীয় দিনের মাথায় চট্টগ্রাম হালিশহরের বাসিন্দা আমার এক বন্ধু হাসপাতালে এসে জানাল, তার বোন ও খালা ডেঙ্গু পজিটিভ। জরুরি ভিত্তিতে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করানো প্রয়োজন।’
আবু আবিদ লেখেন, ‘চট্টগ্রামের প্রায় সবগুলো বেসরকারি হাসপাতালে আমার পরিচিতদের মাধ্যমে যোগাযোগ করেও একটি কেবিন বা বেডের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।’
‘যে হাসপাতালে আমি নিজে ভর্তি ছিলাম, সেটি তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল হওয়ায় সাধারণ সময়ে সেখানে কেবিন বা বেড পাওয়া যায়। কিন্তু সেদিন পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রায় সব বেডই পূর্ণ—আর আমার ছাড়া অন্য রোগীদের অধিকাংশই ছিলেন ডেঙ্গু আক্রান্ত।’
চসিক মেয়রকে উদ্দেশ্য করে আবু আবিদ বলেন, ‘চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, হাসপাতালগুলোতে চাপ বাড়ছে, আর মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চিকিৎসার খরচ সামলাতে গিয়ে আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।’
‘হালিশহরের রাস্তার দুর্ভোগ নিয়ে আমি যখন আপনাকে খোলা চিঠি লিখেছিলাম, আপনি দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে রাস্তার কাজের গতি বাড়িয়েছিলেন। এ জন্যও আপনাকে ধন্যবাদ। কিন্তু আজ সেই আমিই আপনাকে বলছি, রাস্তা সংস্কারের কাজ কিছুদিন ধীরগতিতে হলেও চলবে। রাস্তার কষ্ট মানুষ সহ্য করতে পারবে। কিন্তু ডেঙ্গুর কাছে যেন আর কোনো জীবন হারাতে না হয়।’
আবু আবিদ আরও বলেন, ‘আপনি নিজেও একজন চিকিৎসক। তাই ডেঙ্গুর ভয়াবহতা এবং একজন রোগীর জন্য এর ঝুঁকি আমার চেয়ে আপনি নিশ্চয়ই অনেক ভালো বুঝেন।’
‘আমার বাবাও পরপর দুবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। আর আমি নিজেই একটি গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনার পর এখনও শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠিনি। এই অবস্থায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ে আমার নিজের মধ্যেও ভয় কাজ করছে, এই মুহূর্তে যদি আমি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হই, আমার শরীর তা কতটা সামলাতে পারবে, জানি না।’
তিনি বলেন, ‘এই চিঠি কোনো অভিযোগ নয়। এটি একজন নাগরিকের আবেদন। প্রয়োজনে অন্য কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সাময়িকভাবে ধীর করে হলেও ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও মশক নিয়ন্ত্রণকে এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিন।’
আবু আবিদ আরও বলেন, ‘প্রতিটি ওয়ার্ড, পাড়া ও মহল্লায় তরুণদের সম্পৃক্ত করে মশক নিয়ন্ত্রণ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জমে থাকা পানি অপসারণ, লার্ভা ধ্বংস এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা যেতে পারে।’
খোলা চিঠির শেষদিকে আবিদ বলেন, ‘পদ্ধতি আপনি ঠিক করুন, আমরা শুধু দ্রুত পদক্ষেপ দেখতে চাই। আজ রাস্তার ভোগান্তি মানুষ সহ্য করতে পারবে। কিন্তু একটি জীবন হারিয়ে গেলে সেই ক্ষতি কোনো রাস্তা, কোনো প্রকল্প, কোনো উন্নয়ন দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়।’
কেকে/এমএ