বর্জ্যের ভাগাড়ে পড়ে থাকা বস্তার ভেতর একের পর এক টাকার বান্ডিল। খবর ছড়িয়ে পড়তেই সেখানে ভিড় করেন স্থানীয় লোকজন। অনেকে আসল টাকা মনে করে বস্তা থেকে টাকা নিয়ে বাড়ি চলে যান। পরে জানা যায়, সেগুলো আসল টাকা নয়, জাল নোট। আর নোটগুলোর পেছনে ছোট করে লেখা রয়েছে—‘Only for Shooting’।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে বগুড়া শহরের গোদারপাড়ায় নওগাঁ-বগুড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে একটি বর্জ্যের ভাগাড়ে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের দাবি, বস্তাটিতে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ছিল। কেউ কেউ এর পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকা বলে দাবি করেছেন। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত এত বিপুল পরিমাণ জাল টাকা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকালে ভাগাড়ে একটি বস্তা পড়ে থাকতে দেখে কয়েকজনের নজরে আসে। বস্তাটি খুলে ভেতরে টাকার বান্ডিল দেখতে পান তারা। প্রথমে কেউ বুঝতে পারেননি যে এগুলো জাল। টাকা পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লে আরও লোকজন সেখানে জড়ো হন। পরে নোটগুলো পরীক্ষা করে জাল বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
স্থানীয়রা জানান, বস্তায় ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট ছিল। দেখতে অনেকটা আসল নোটের মতো হওয়ায় অনেকে সেগুলো কুড়িয়ে নিয়ে যান। পরে নোটের পেছনে ছোট করে ইংরেজিতে লেখা ‘Only for Shooting’ নজরে আসে। এ লেখা দেখে ধারণা করা হয়, নোটগুলো হয়তো কোনো শুটিং বা দৃশ্য ধারণের কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। শুটিংয়ের কাজে ব্যবহৃত জাল নোটের এত বড় একটি চালান কীভাবে বগুড়ার গোদারপাড়ার ভাগাড়ে এলো, কে বা কারা তা সেখানে ফেলে গেল এবং সেখান থেকে কোনো নোট ইতিমধ্যে মানুষের হাতে ছড়িয়ে পড়েছে কি না এ সব বিষয় নিয়ে চলছে আলোচনা।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে জাল এক হাজার টাকার একটি বান্ডিল আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। নোটগুলোর পেছনে ছোট করে ‘Only for Shooting’ লেখা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘জাল টাকার উৎস এবং কারা এগুলো সেখানে ফেলে গেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের কুড়িয়ে নেওয়া টাকার বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হবে।’
কেকে/এআই