রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৫ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: রামিসার মতো অপ্রতিম হত্যার বিচারও দ্রুত শেষ হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী      দেশে বিশ্বের সর্বাধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি আনা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ      ভয়াবহ নাশকতার ছক আওয়ামী লীগের      একাদশে ভর্তির চূড়ান্ত ফল প্রকাশ, ভর্তি শুরু রোববার      রাজধানীতে পৃথক স্থানে তিন বাসে আগুন      রাজধানীতে চলন্ত বাসে আগুন      
দেশজুড়ে
অবৈধ টমটমের দখলে পর্যটন নগরী কক্সবাজার
মো. নেজাম উদ্দিন, কক্সবাজার
প্রকাশ: রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৪ পিএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়ক প্রশস্ত ও ফুটপাত নির্মাণ করা হলেও কমেনি যানজট। বরং অবৈধ টমটম, অটোরিকশা ও বিভিন্ন ছোট যানবাহনের চাপে পর্যটন শহরের সড়কগুলোতে প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। আধা কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতেও কখনো কখনো এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগছে।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) উদ্যোগে প্রধান সড়কের উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ করা হয়। সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য। কিন্তু সড়কের দুই পাশে টমটম ও অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো এবং বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে গাড়ি পার্ক করায় সড়কের কার্যকর প্রশস্ততা কমে গেছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কক্সবাজার শহরে যে পরিমাণ টমটমের প্রয়োজন, তার চার গুণ বেশি টমটম চলাচল করছে। ২ হাজার ৫০০ টমটমের অনুমতি থাকলেও অন্যগুলোর কোনো কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেই। এর পরও শহরে ৫ হাজারের অধিক টমটম চলাচল করছে।

মানিক মিয়া নামে এক টমটম চালক একরাশ অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা গাড়ি চালাচ্ছি পৌরসভার অনুমতিক্রমে। সেই সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশ থেকে আমাদের গাড়িতে পরিচয়পত্র টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যারা অবৈধভাবে গাড়ি বা টমটম চালাচ্ছে, তাদের আইনের আওতায় আনা দরকার। আবার অনেকেই আছে রোহিঙ্গা। এটা দেখার কেউ নেই।’

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও টমটম এখন পর্যটন নগরী কক্সবাজারের এক অন্যরকম আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকে দুপুর এবং বিকাল থেকে রাত প্রায় ১১টা পর্যন্ত শহরের বাজারঘাটা, লালদিঘীর পাড়, ভোলা বাবুর পেট্রোল পাম্প, বার্মিজ মার্কেট, বৌদ্ধ মন্দির সড়ক, হাসপাতাল সড়ক ও বড় বাজার এলাকায় যানজট লেগেই থাকে। মাঝে মধ্যে কালুর দোকান ও পিটি স্কুল এলাকাও যানজটে পড়ে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষকে। এতে যেমন মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, তেমনি ব্যাহত হচ্ছে মানুষের নিত্যনৈমিত্তিক কর্মকাণ্ড।

শহরের বার্মিজ মার্কেট এলাকায় কথা হয় বৃদ্ধ শাহাব মিয়ার সঙ্গে। যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ছোট্ট এই শহরে চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত টমটম ও রিকশার সংখ্যা বেড়ে গেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সিএনজি, মাহিন্দ্রাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। ফলে যানজটের মাত্রা তীব্র আকার ধারণ করেছে। যার কারণে পর্যটন শহর কক্সবাজার এখন যেন টমটমের শহরে পরিণত হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আনাড়ি টমটম চালকদের হাতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে এবং হতাহত হচ্ছে মানুষ। পৌর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট মহলের শিথিলতায় ওইসব আনাড়ি টমটম চালক ও মালিক পার পেয়ে যাচ্ছেন। এতে করে কক্সবাজার শহরে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অবৈধ টমটমের বহর। টমটমের জটে প্রায় সময় রাস্তায় হাঁটা-চলাই দুষ্কর হয়ে পড়ে। টমটমের জটে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন পর্যটক ও শহরবাসী।’

অধিকাংশ টমটম চালক আনাড়ি ও অপরিপক্ব। দেখা গেছে, চালকদের অনেকেই সাগরে মাছ ধরার কাজ করতেন। সেখানে মন্দা দেখা দেওয়ায় শহরে এসে টমটম চালানো শুরু করেছেন। আবার কেউ ছিলেন রিকশাচালক, এখন হয়েছেন টমটম চালক। অথচ কারও কোনো প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা নেই। তাই রাস্তায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া এসব হাজার হাজার টমটম প্রতিদিন অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ চুরি করে শহরবাসীর বিড়ম্বনা বাড়ালেও যেন দেখার কেউ নেই। অধিকাংশ ফিটনেসবিহীন টমটমের লাইট জ্বলে না। রাতের বেলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়েও দুর্ঘটনা ঘটে।

কক্সবাজার শহরে একাধিক সড়ক থাকলেও প্রধান সড়কটিই একমাত্র যানবাহন চলাচলের উপযোগী। শহরের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো দখল-বেদখলে কাহিল। তাই প্রধান সড়কেই সব ধরনের যানবাহনের চাপ পড়ে।

কক্সবাজার শহরকে যানজটমুক্ত করতে পৌর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসন শহরে বড় যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করে। তবে ছোট যানবাহন চলাচলের সুযোগে টমটম নামের ইজিবাইকগুলো কক্সবাজার শহরের রাস্তা-ঘাট দখল করে নেয়। ধোঁয়ামুক্ত ও পরিবেশসম্মত হওয়ায় প্রশাসন শহরে ইজিবাইকগুলোর চলাচলের অনুমতি দেয়। কিন্তু এই সুযোগে শহরে প্রয়োজনের চার গুণ বেশি ইজিবাইক চলাচল করায় নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে টমটমের জট।

ট্রাফিক পুলিশ বলছে, যানজটের অন্যতম কারণ নিয়ন্ত্রণহীনভাবে টমটমের লাইসেন্স দেওয়া এবং লাইসেন্সবিহীন টমটমের বেপরোয়া চলাচল। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে পানবাজার সড়ক, ভোলাবাবুর পেট্রোল পাম্প এলাকা ও বড় বাজার এলাকায় ব্যবসায়ীরা ট্রাফিক পুলিশকে সহযোগিতা না করায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

আবুল হাসেমের মতো ভারাক্রান্ত মন নিয়ে যানজটের চরম দুর্ভোগের বর্ণনা দেন গোলদিঘীর পাড় এলাকার ব্যবসায়ী কিরণ পাল। তিনি বলেন, ‘অটোরিকশা আর টমটমের শহরে পা ফেলায় যেন আজন্ম পাপ হয়েছে। শহরের লালদিঘীর পাড় থেকে বার্মিজ মার্কেট পর্যন্ত এক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ২/৩ ঘণ্টা সময় লেগে যায়।’

প্রবীণ এই বাসিন্দা আরও বলেন, ‘গত এক মাস ধরে শুধু প্রধান সড়ক নয়, শহরের বিভিন্ন অলি-গলিতে যেভাবে যানজটের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে পুরো শহরটাকে যানজট কাবু করে রেখেছে। যানজটের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে—লাইসেন্সধারী ও লাইসেন্সবিহীন রিকশা ও টমটমের ছড়াছড়ি।’

এদিকে লোকবল সংকটের মাঝেও ট্রাফিক পুলিশ যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে।

জেলা ট্রাফিক পুলিশ বলছে, পর্যটন শহরকে যানজটমুক্ত রাখতে ট্রাফিক পুলিশ দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে। যে সকল চালককে কক্সবাজার পৌরসভা টমটম চালানোর সুযোগ দিয়েছে, তাদের পরিচয়পত্র পুলিশের হাতে রয়েছে। টমটম গাড়িতে একটি কার্ডও রাখা হয়েছে, যেখানে টমটম চালকের বিস্তারিত তথ্য লেখা আছে।

পুলিশ আরও বলছে, এখন তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও দক্ষ চালক হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি টমটম চালকদের জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে অনলাইনভিত্তিক ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  অবৈধ টমটম   পর্যটন নগরী   কক্সবাজার  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close