ইয়েমেনের মধ্যাঞ্চলীয় শহর মারিবের উপকণ্ঠে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষে অন্তত ৮০ হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী। ইরান-সমর্থিত হুথিরা জ্বালানি সম্পদসমৃদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ শহরটি দখলের লক্ষ্যে হামলা জোরদার করার মধ্যেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল।
ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর সামরিক গণমাধ্যম বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া আল-হাতেমি রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) আরব নিউজকে বলেন, “শনিবার থেকে রোববার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মারিবের দক্ষিণাঞ্চলের হারেব, মালা ও উম রাইশ এলাকায় সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। সরকারি বাহিনীকে যুদ্ধবিমান ও ড্রোন দিয়ে সহায়তা করা হয়।”
তিনি বলেন, “ সরকারি বাহিনী হুথিদের হামলা প্রতিহত করেছে। এতে ৮০ জনের বেশি হুথি যোদ্ধা নিহত এবং তাদের নয়টি সামরিক যান ধ্বংস হয়েছে “
আল-হাতেমি বলেন, ‘হুথিদের ৮০ জনের বেশি যোদ্ধা নিহত হয়েছে। বাকিরা পালিয়ে গেছে এবং নয়টি সামরিক যান ধ্বংস করা হয়েছে।’
ইয়েমেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মারিব প্রদেশের বিভিন্ন ফ্রন্টলাইনেও হুথিদের অবস্থানে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় যোদ্ধাদের সমাবেশ, সামরিক রসদ ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা অবস্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
মারিব শহরে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষের সবচেয়ে বড় ঘনবসতি রয়েছে। গত এক দশকে সংঘাত ও হুথিদের দমন-পীড়ন থেকে পালিয়ে ২০ লাখের বেশি মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন। শহরটির আশপাশে তেল ও গ্যাসক্ষেত্রের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রও রয়েছে।
মারিব দখলের লক্ষ্যে হুথিদের একাধিক অভিযানে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক ও যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছেন। তবে এসব অভিযানের কোনোটি শহরটি দখলে সফল হয়নি। ২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর হুথিরা তাদের বড় ধরনের অভিযান বন্ধ করে।
আল-হাতেমি বলেন, “২৪ ঘণ্টায় সরকারি বাহিনীর ব্যাপক হামলার কারণে মারিবের উপকণ্ঠের বিভিন্ন অবস্থান থেকে হুথি যোদ্ধারা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।”
এদিকে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সানা, আমরান, হোদেইদাহসহ হুথি-নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৫০ জন যোদ্ধার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও ছিলেন। তারা যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
আল-হাতেমির দাবি, হুথিরা প্রকাশ্যে যে সংখ্যক নিহতের কথা স্বীকার করেছে, তা প্রকৃত যুদ্ধক্ষেত্রের মৃত্যুর ১০ শতাংশেরও কম। তার হিসাবে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ হুথি যোদ্ধা নিহত হচ্ছেন। তবে মনোবল ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় হুথিরা প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা গোপন করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ইয়েমেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তায়েজ প্রদেশেও হুথিদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর শহরটির পশ্চিমে অবস্থিত নোমান পাহাড়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সরকারি বাহিনী।
এদিকে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে মোকা ও বাব আল-মান্দাবের আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক সামরিক অগ্রগতির পর হুথিরা তাদের অবস্থান সুসংহত করতে লাহিজ প্রদেশের আল-মাদারিবাহ ওয়াল-আরা জেলার পাহাড়ি এলাকায় সরকারি বাহিনীর অবস্থানে হামলা চালাচ্ছে। তায়েজ প্রদেশের কৌশলগত প্রণালিটির দিকে মুখ করে থাকা এলাকাগুলোতেও হামলা চালানো হচ্ছে।
রোববার সরকারি বাহিনীর ‘নেশনস শিল্ড ফোর্সেস’ জানিয়েছে, তারা আল-মাদারিবাহ ওয়াল-আরা এলাকায় কাহবুব পাহাড়ের কাছে হুথিদের একটি হামলা প্রতিহত করেছে এবং একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর জায়ান্টস ব্রিগেড ও নেশনস শিল্ড ফোর্সেস স্থানীয় উপজাতীয় যোদ্ধাদের সহযোগিতায় কাহবুব পাহাড়ে হুথিদের ধারাবাহিক হামলা প্রতিহত করছে।
কাহবুব পাহাড়ের নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে গেলে তারা বাব আল-মান্দাব প্রণালির ওপর কৌশলগত অবস্থান তৈরি করতে পারবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের আসন দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এডেনের দিকে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের পথও উন্মুক্ত হতে পারে।
এদিকে ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আল-নুজাইলি জানিয়েছেন, দেশটির কেন্দ্রীয় আল-বায়দা প্রদেশে হুথি যোদ্ধা ও সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে সেনাবাহিনীর বিমানবাহিনী।
সূত্র: আরব নিউজ
কেকে/সাশ