আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় কুনার ও পাকতিকা প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। তালেবান সরকারের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আফগান বার্তাসংস্থা খ্যামা প্রেস।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাত ও ভোরে চালানো এসব হামলায় অন্তত তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
তালেবান কর্মকর্তারা জানান, সোমবার রাত আড়াইটার দিকে কুনার প্রদেশের নুরগাল জেলার পাটান গ্রামের একটি বাড়িতে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান হামলা চালায়। এতে তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং কয়েকজন আহত হন।
এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ভোর ৪টার দিকে পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলার তোর কান্দি ও রাখায় দ্বিতীয় দফায় বিমান হামলা চালানো হয়। তালেবান-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের দাবি, হামলায় একটি পরিত্যক্ত দোকান ও একটি পরিত্যক্ত বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। তবে সেখানে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সোমবার সকাল পর্যন্ত এসব হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানে প্রাণঘাতী হামলা বাড়ার পর সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে পাকিস্তান সামরিক অভিযান জোরদার করেছে। দেশটির দাবি, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) বা ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ আফগানিস্তানের ভেতরে থাকা নিরাপদ আশ্রয় থেকে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তবে তালেবান এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
আফগানিস্তানে হামলার এক দিন আগে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, খাইবার পাখতুনখাওয়ার হাঙ্গু জেলায় জঙ্গিদের সঙ্গে সংঘর্ষে দুই কর্মকর্তাসহ ছয় সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ কোহাটে সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলার সঙ্গেও আফগানিস্তান থেকে আসা জঙ্গিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছে।
২০২১ সালের আগস্টে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই সীমান্তে পাকিস্তানি বিমান হামলা দুই দেশের উত্তেজনার অন্যতম কারণ। তালেবান কর্মকর্তারা এসব হামলার নিন্দা জানিয়ে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছেন। অন্যদিকে পাকিস্তানের দাবি, নিজেদের ভূখণ্ডে হামলা চালানো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার থেকেই তারা এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে।
সর্বশেষ হামলার ঘটনায় কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কেকে/ এমএস