কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের আসামিদের পক্ষে মামলা না লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা। তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র চাইলে আসামিপক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করতে পারবে বলে জানিয়েছেন সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সহীদ উল্লাহ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার, কোষাধ্যক্ষ, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সহীদ উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মাহাবুবুল হক খন্দকার এবং কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. কাইমুল হক রিংকু। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।
অ্যাডভোকেট সহীদ উল্লাহ বলেন, ‘আমরা সবাই—শুধু কুমিল্লা নয়, সারা বাংলাদেশের মানুষ—এই ঘটনায় মর্মাহত। আমাদেরও সন্তান রয়েছে। এ কারণে আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা কেউ আসামির পক্ষে দাঁড়াব না।’
তিনি বলেন, ‘এটা কোনো লিখিত রেজুলেশনের মাধ্যমে নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়। আমরা মৌখিকভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আসামিপক্ষে আইনজীবী থাকা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র যদি আইনজীবী নিয়োগ না করে, তাহলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে না। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যারা উপস্থিত নেই, তাদেরও বিচার হচ্ছে। তাদের পক্ষেও একজন আইনজীবী আছেন। যাতে একতরফা বিচার না হয় এবং আসামিপক্ষ থেকেও যুক্তি-তর্ক ও জবানবন্দি উপস্থাপন করা যায়, সে জন্যই আইনজীবী রাখা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মানবিক কারণে আসামিপক্ষে আইনজীবী হিসেবে দাঁড়ানো থেকে বিরত থাকব। তবে রাষ্ট্র যদি কোনো আইনজীবীকে আসামিপক্ষে নিয়োগ দেয়, তিনি তার দায়িত্ব পালন করবেন এবং তার পারিশ্রমিকও রাষ্ট্র বহন করবে।’
অ্যাডভোকেট সহীদ উল্লাহ বলেন, ‘আসামির পক্ষের কোনো ব্যক্তি, দল বা পক্ষকে সেই আইনজীবীর খরচ বহন করতে হবে না। ন্যায়বিচার ও সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থেই রাষ্ট্র সেই খরচ বহন করবে।’
এ বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরিফুল করিম বলেন, ‘অপ্রতিম আমাদেরই ছেলে। এই ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। আমরা আশা করব, কুমিল্লা বারের কোনো আইনজীবী যেন আসামিদের পক্ষে না লড়েন।’
উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ, মো. কামরুল হাসান ও সিয়ামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কেকে/সাশ