ভালোবাসার জটিল সমীকরণ সবার ভালো লাগে না। কারও কাছে যুগলজীবনের চেয়ে একা থাকাই বেশি স্বস্তির। নেই কারও কাছে কৈফিয়ত দেওয়ার দায়, নেই অন্য কাউকে খুশি রাখার বাড়তি চাপ। নিজের ইচ্ছেমতো চলা, নিজের মতো করে জীবনকে সাজানো—এতেই তারা খুঁজে পান প্রশান্তি।
প্রেমের আনুষ্ঠানিকতা পালনের তাড়া নেই, নেই অভিমান-অভিযোগের পাল্টাপাল্টি। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য প্রতিনিয়ত আপসও করতে হয় না। নিজের জীবন নিজের মতো করে বেছে নেওয়ার স্বাধীনতাই তাদের কাছে সবচেয়ে বড়।
ভুল-শুদ্ধ, পাওয়া-না পাওয়ার হিসাবও তাই কখনো কখনো এক পাশে সরিয়ে রাখা যায়। তখন মনে হয়—‘যেমনই হোক, এ আমার জীবন। আমি আমার মতো বাঁচি, কার তাতে কী?’
এই মানুষগুলোর জন্যই আজকের দিন। আজ ২৩ সেপ্টেম্বর, সিঙ্গেল দিবস।
কারেন রিড নামের এক ব্যক্তি দিবসটির প্রচলন করেন। শুরুতে অবশ্য ১ জানুয়ারি সিঙ্গেল দিবস পালনের কথা ছিল। পরে ২০১৭ সাল থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে ২৩ সেপ্টেম্বর সিঙ্গেল দিবস পালিত হয়। তবে চীনে দিনটি উদ্যাপন করা হয় ১১ নভেম্বর।
প্রেম তাহলে কী? শিকল, যা হাত-পা বেঁধে রাখে? নাকি ঘুড়ির নাটাই, যার নিয়ন্ত্রণ থাকে অন্য কারও হাতে? আবার কারও কাছে প্রেম হয়তো উদার আকাশ—যেখানে ভালোবাসার ডানায় ভর করে উড়ে বেড়ানো যায়। প্রশ্নগুলোর উত্তর একেকজনের কাছে একেক রকম। তাই প্রেমের সংজ্ঞাও থেকে যায় তর্কসাপেক্ষ, অমীমাংসিত।
কারও কাছে প্রেম অনন্ত শক্তির উৎস। আবার কারও কাছে তা শক্তির বিনাশ, সময়ের অপচয়। কেউ মনে করেন, পৃথিবীতে প্রেম ছাড়া কিছুই নেই। আবার কেউ বিশ্বাস করেন, পৃথিবীতে প্রেম বলে আদতে কিছু নেই।
প্রেম নিয়ে মানুষের এই ভিন্নতা নতুন নয়। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, ‘আমরা দুজনে ভাসিয়া এসেছি যুগল প্রেমের স্রোতে’। আবার নির্মলেন্দু গুণের কণ্ঠে শোনা যায়, ‘আমার ভালোবাসা কিংবা প্রেম-সংক্রান্ত কোনো স্মৃতি নেই’। নচিকেতাও বলেছেন, ‘পোশাকি প্রেমের প্রয়োজন বোধ করি না’।
অর্থাৎ প্রেমের গল্প সবার এক নয়। কেউ ভালোবাসার মানুষের হাত ধরে পথ চলতে চান, কেউ আবার নিজের সঙ্গেই পথ চলায় খুঁজে পান স্বস্তি।
কারও কাছে তাই ভালোবাসার চেয়ে একা থাকাটাই বেশি আনন্দের। তাদের জীবন যেন জয় গোস্বামীর সেই পঙ্ক্তির মতো—‘একাই থাকব, একাই দুটো ফুটিয়ে খাব’।
একা থাকাতেও আছে আনন্দ
একাকিত্ব আর একা থাকা—দুটো বিষয় এক নয়। একা থাকা কখনো কখনো নিজের সঙ্গে নিজের সময় কাটানোর সুযোগও হতে পারে। নিজের পছন্দ, নিজের সিদ্ধান্ত আর নিজের স্বাধীনতাকে উপভোগ করারও আলাদা এক আনন্দ আছে।
তাই সঙ্গীহীন জীবন মানেই যে বিষণ্নতা, তা নয়। কারও কাছে সেটিই হতে পারে সবচেয়ে নির্ভার জীবন—যেখানে নিজের জীবনের গল্পটা নিজের মতো করেই লেখা যায়।
কেকে/ এমএস