দেশের ৭৫ কারাগারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সাত নির্দেশনার আলোকে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কারা অধিদপ্তর জারি করা পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে– লক-আপ পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ, সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি, দায়িত্বে অননুমোদিত অনুপস্থিতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, দায়িত্ব পালনে অবহেলাকারী স্টাফদের পুনঃপ্রশিক্ষণ, প্রতিকূল আবহাওয়ায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি করা। কেউ দায়িত্বে অবহেলা করলে নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা।
সূত্র জানায়, কারাগারে কর্তব্য পালনে অবহেলা, শৃঙ্খলাহীনতা ও বিদ্যমান নিয়ম-কানুন সঠিকভাবে অনুসরণ না করার কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অ্যাডিশনাল আইজি প্রিজন্স কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম বলেন, নির্দেশনাগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে কারা অধিদপ্তর এরই মধ্যে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রতিদিন দেশের প্রতিটি কারাগারে জোরদার তদারকি করা হচ্ছে। কারাগারগুলো থেকে কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়মিত মতামত পাঠাতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্দেশনাগুলো কতটা মানা হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণের জন্য অধিদপ্তরের অপারেশনাল শাখাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কারা অধিদপ্তর ডেপুটি জেলারসহ অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের জন্য উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের সারাদেশের কারাগারগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য নিযুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, এরই মধ্যে নির্দেশনার অন্তত ৯০ শতাংশ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে। আগামী ৪ মাসের মধ্যে এ পদক্ষেপগুলোর সুফল দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। দায়িত্ব পালনে অবহেলার জন্য দোষী সাব্যস্ত স্টাফদের আন্তঃকারাগারে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, নির্দেশনা অনুযায়ী, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত জরুরি ক্ষেত্র ব্যতিত লক-আপের পরবর্তী কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও নিরুৎসাহিত করতে হবে। যেকোনো ব্যতিক্রমী ব্যবস্থার জন্য জেলারের লিখিত অনুমোদন, নির্দিষ্ট সময়সীমা ও সংশ্লিষ্ট রেজিস্টারে বাধ্যতামূলক নথিভুক্ত থাকতে হবে। এ নির্দেশনায় প্রতিটি কারাগারে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেখানে সম্ভব, সেখানে পৃথক পর্যবেক্ষণ কক্ষ স্থাপন করতে হবে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখার জন্য প্রশিক্ষিত ও তথ্যপ্রযুক্তি দক্ষ কারারক্ষীদের নিযুক্ত করতে হবে। আর যেখানে নির্দিষ্ট কক্ষ নেই, সেখানে নিরবিচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য উপযুক্ত স্থানে মনিটর স্থাপন করতে হবে।
অ্যাডিশনাল আইজি প্রিজন্স মেসবাহুল আলম সেলিম বলেন, নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি রোধ করতে কারা অধিদপ্তর দায়িত্বের স্থান থেকে অননুমোদিত অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করেছে। কোনো প্রহরী বা অন্য কোনো পাহারাদার স্টাফকে অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত স্থান ত্যাগ করতে দেখা গেলে, অবিলম্বে লিখিতভাবে জানাতে হবে এবং বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অবহেলা বা অননুমোদিত অনুপস্থিতির ঘটনা গোপন করা, রিপোর্ট করতে বিলম্ব বা এড়িয়ে যাওয়া অথবা দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জবাবদিহি করতে হবে।
অবহেলার জন্য বারবার রিপোর্ট করা স্টাফদের জন্য পুনঃপ্রশিক্ষণ, কাউন্সেলিং ও অনুপ্রেরণামূলক ব্যবস্থারও বিধান রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ও প্রশাসনিক স্বার্থে এ ধরনের স্টাফদের বদলি করা হতে পারে অথবা বিদ্যমান প্রবিধান অনুসারে তারা বিভাগীয় কার্যক্রমের সম্মুখীন হতে পারেন। সূত্র মতে, বৃষ্টি ও বজ্রপাতসহ প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্টাফদের অবশ্যই তাদের নির্ধারিত স্থানে থাকতে হবে এবং দায়িত্ব পালনের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে হবে।
সূত্র জানায়, কারা অধিদপ্তর কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার, সুপার, জেলার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য কর্মকর্তাদের নিয়মিত তত্ত্বাবধান ও আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। তারা নিরাপত্তা চৌকি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, প্রহরীদের দায়িত্ব ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সামগ্রিক কার্যকারিতা পরীক্ষা করবেন এবং যেকোনো ত্রুটি দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। গত আগস্টে জারি করা সাত নির্দেশনায় সতর্ক করা হয়েছিল যে, কারাগারের অভ্যন্তরে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কারা প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট এবং বিরূপ জনমত সৃষ্টি করতে পারে। নিরাপত্তা ত্রুটি প্রতিরোধ, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কারা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে বৃহত্তর জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে অবিলম্বে এ ব্যবস্থাগুলো বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেকে/সাশ