লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় বাক্প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের মামলায় শহিদুল ইসলাম (৩৮) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লালমনিরহাট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিত্যানন্দ সরকার এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত শহিদুল ইসলাম কালীগঞ্জ উপজেলার জামিরবাড়ি গ্রামের নবিয়ার রহমানের ছেলে।
আদালত ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৪ আগস্ট শহিদুল ইসলাম হাতীবান্ধা উপজেলায় শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান। এ সময় বাড়িটি ফাঁকা পেয়ে পাশের বাড়ির ১০ বছর বয়সী এক বাক্প্রতিবন্ধী শিশুকে মোবাইলে ছবি দেখানোর কথা বলে শ্বশুরবাড়িতে ডেকে নেন তিনি। পরে সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন।
ঘটনার পর শিশুটি বিবস্ত্র অবস্থায় কান্না করতে করতে বাড়িতে ফিরে মাকে বিষয়টি জানায়। পরে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে হাতীবান্ধা থানায় শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
দীর্ঘ শুনানি শেষে বুধবার আসামির উপস্থিতিতে মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। রায়ে শহিদুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জরিমানার অর্থ নির্যাতিত শিশুকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান বলেন, মামলাটি একটি আলোচিত ও ন্যক্কারজনক ঘটনা। আসামি মোবাইলে ছবি দেখানোর কথা বলে বাক্প্রতিবন্ধী শিশুটিকে ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন। আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।
কেকে/সাশ