শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ● হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু      ● তেলের দাম বাড়তেই বাজারে সবজির দামে উত্তাপ      ● ডেঙ্গু প্রাণ নিলো আরও দুইজনের      ● মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরে আসিয়ান কাপ শুরু বাংলাদেশের      ● দেশকে তাবেদার রাষ্ট্র করতে চাইলে প্রতিরোধ গড়বে বিএনপি : রিজভী      ● জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ, অভিনন্দন জানালেন রাষ্ট্রপতি      ● দেশের সব হাট-বাজারে সৌরবিদ্যুৎ বসানোর নির্দেশ সরকারের      
দেশজুড়ে
নাইক্ষ্যংছড়ির ইয়াংনি ম্রো পাড়ায় হামের প্রাদুর্ভাব
নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুর্গম দৌছড়ি ইউনিয়নের ইয়াংনি ম্রো পাড়ায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। মাত্র ২৫ পরিবারের এ পাড়ায় প্রায় প্রতিটি ঘরের শিশুর মধ্যেই হামসদৃশ উপসর্গ দেখা দিয়েছে। 

স্থানীয়দের দাবি, আক্রান্তদের মধ্যে অন্তত ৯ শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ঘটনায় পাড়াজুড়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দুটি মেডিকেল টিম দুর্গম পাড়াটিতে গিয়ে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, দোছড়ি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইয়াংনি ম্রো পাড়ার কয়েকটি পরিবারের বেশ কয়েকজন শিশুর শরীরে জ্বর, সর্দি-কাশি ও লালচে দাগসহ হামের মতো উপসর্গ দেখা যায়।
 
স্বজনরা জানান, কয়েক দিন ধরে এক শিশুর পর আরেক শিশু একই ধরনের উপসর্গে আক্রান্ত হচ্ছে। অনেক শিশু দুর্বল হয়ে পড়েছে বলেও জানান তারা।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ইয়াংনি পাড়ায় আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছে—দুখা (পিতা চুরইন), চিরন (পিতা দুখা), পন (স্বামী দুখা), কাঞ্চন (পিতা দুখা), চংওয়াই (পিতা চিরন), চাউরুন (পিতা চিরন), তংপুং (পিতা কাঞ্চন), চুংঅং (পিতা কাঞ্চন) ও তুমহ্লে (পিতা কাঞ্চন)। 

আক্রান্ত সবাই নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দৌছড়ি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইয়াংনি ম্রো পাড়ার বাসিন্দা।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পাড়াটিতে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ সীমিত। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় অসুস্থ শিশুদের দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়াও কঠিন। ফলে শিশুদের মধ্যে একই ধরনের উপসর্গ ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ বাড়ছে বাসিন্দাদের মধ্যে।

ইয়াংনি ম্রো পাড়ার এক বাসিন্দা বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে শিশুদের জ্বর ও শরীরে লাল লাল দাগ দেখা যাচ্ছে। এক শিশুর পর আরেক শিশুর একই সমস্যা হচ্ছে। আমরা খুবই আতঙ্কের মধ্যে আছি। দুর্গম এলাকা হওয়ায় অসুস্থ শিশুদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। তবে খবর পেয়ে চিকিৎসকদের টিম এসেছে।’

আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘এখানে কোনো চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মী নিয়মিত আসেন না। এখন রোগের খবর পেয়ে ডাক্তারদের টিম এসেছে। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করলে আসলে কী হয়েছে, তা বুঝা যাবে।’

হামের প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়ার পর নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবুল মনজুরের উদ্যোগে দুটি মেডিকেল টিম গঠন করে ইয়াংনি ম্রো পাড়ায় পাঠানো হয়। পাঁচ সদস্যের একটি টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডা. নিতাই চন্দ্র। টিমগুলো আক্রান্ত শিশুদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবুল মনজুর বলেন, ‘সারাদেশেই বর্তমানে হামের প্রাদুর্ভাব রয়েছে। তবে নাইক্ষ্যংছড়িতে সামগ্রিকভাবে হাম রোগীর সংখ্যা কমে এসেছে। এর মধ্যেই দুর্গম একটি ম্রো পাড়ায় নয়জন শিশুর হাম আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুটি মেডিকেল টিম গঠন করে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তারা সেখানে গিয়ে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। কোনো রোগীর অবস্থা খারাপ মনে হলে তাকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হবে।’

ডা. আবুল মনজুর আরও বলেন, ‘নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাম রোগীদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ব্লক রয়েছে। সেখানে বর্তমানে রামু এলাকার দুই শিশু চিকিৎসাধীন আছে। এর আগে প্রায় এক সপ্তাহ আগে এখানে ১২ জন হাম রোগী ভর্তি ছিল। চিকিৎসা শেষে তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।’

তিনি জানান, বর্তমানে উপজেলায় সামগ্রিকভাবে হামসহ অন্যান্য রোগের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ইয়াংনি ম্রো পাড়ায় নতুন করে আক্রান্তের খবর পাওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এনামুল হাসান বলেন, ‘দুর্গম ইয়াংনি ম্রো পাড়ায় শিশুদের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। খবর পেয়ে দ্রুত চিকিৎসা টিম পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। যারা বেশি ঝুঁকিতে বা বেশি আক্রান্ত হয়েছে, তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসতে বলা হয়েছে, যাতে দ্রুত যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া যায়।’

স্থানীয়দের দাবি, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে পাড়াটিতে হামসহ সংক্রামক রোগের বিস্তার ঠেকাতে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  নাইক্ষ্যংছড়ি   ইয়াংনি ম্রো   পাড়ায়   হাম   প্রাদুর্ভাব  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close