আন্তর্জাতিক উদ্ভাবনের মঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল ৮ বছরের ক্ষুদে উদ্ভাবক ওয়াশিক জাহেদ ইয়াফী। মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেনশন কম্পিটিশন অ্যান্ড এক্সিবিশন (WICE) ২০২৬’-এ ‘আইটি অ্যান্ড রোবোটিক্স’ ক্যাটাগরিতে স্বর্ণপদক জয় করেছে সে।
সিলেটের স্টেমেস স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াফী তার উদ্ভাবনী দল ‘SYT Innovators’-এর হয়ে নিজেদের তৈরি যুগান্তকারী প্রজেক্ট ‘AI Military Rover’ প্রদর্শন করে এই গৌরব অর্জন করে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয় ২৩ সেপ্টেম্বর। এতে অংশ নেয় আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ার ৩০টিরও বেশি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি সংস্থার মোট ৫১৭টি নিবন্ধিত দল। অনলাইন ও অফলাইন পর্ব মিলিয়ে অংশ নেওয়া পাঁচ হাজারের বেশি তরুণ গবেষক ও উদ্ভাবকের ভিড়ে কঠিন প্রতিযোগিতা ডিঙিয়ে বাংলাদেশের ২৩টি দল মূল পর্বে জায়গা করে নেয়। সেই বিশ্বমঞ্চেই ‘AI Military Rover’ প্রদর্শন করে আন্তর্জাতিক বিচারকদের নম্বর ও চূড়ান্ত মূল্যায়নে সবাইকে পেছনে ফেলে স্বর্ণপদক (গোল্ড মেডেল) ছিনিয়ে নেয় ইয়াফী ও তার দল ‘SYT Innovators’ নির্মিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সামরিক রোভারটি।
শিশুপুত্রের এই আন্তর্জাতিক সাফল্যে আবেগাপ্লুত ইয়াফীর বাবা জাহেদ হোসেন তাজিন। তিনি মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তিনবারের নির্বাচিত সদস্য।
পুরস্কার পাওয়ার মুহূর্তের অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, “মঞ্চে যখন ‘GOLD MEDAL goes to WASHIQ JAHED YAFI-SYT INNOVATORS, BANGLADESH’ ঘোষণা করা হলো, তখন আমার চোখে পানি চলে এসেছিল। এটা শুধু একটা মেডেল নয়, এটা আমার ছেলের ঘাম, শ্রম ও নির্ঘুম রাতের ফসল।”
তিনি আরও বলেন, “ইয়াফী আমার ছেলে, কিন্তু আজ সে পুরো বাংলাদেশের ছেলে। সে প্রমাণ করেছে, আমাদের দেশের কোমলমতি শিশুরাও বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দিতে পারে।”
ইয়াফীর পরিবারে শিক্ষার প্রতি রয়েছে গভীর অনুরাগের আবহ। পরিবারে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ ইয়াফীকে সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করেছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, তার বড় ভাই ওয়াফিক জাহেদ ঈশান সিলেটের জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং তার মা উম্মে কুলছুম তাহমিনা একজন ব্যাংকার ও ইউনিয়ন ব্যাংকে কর্মরত। প্রযুক্তি ও রোবোটিক্সের প্রতি তার আগ্রহ ভবিষ্যতে আরও বড় উদ্ভাবনের পথ তৈরি করবে—এমন প্রত্যাশা পরিবারের।
মাত্র আট বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক অর্জন করে ইয়াফী এখন জুড়ী তথা সিলেটের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশের জন্যও এক অনুপ্রেরণার নাম। ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে উদ্ভাবনে শিশু ইয়াফীর মতো ক্ষুদে বিজ্ঞানীরাই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের।