চিকিৎসাসেবাকে কেবল পেশা নয়, ব্রত হিসেবে গ্রহণ করে বান্দরবানের লামা উপজেলায় সুনাম কুড়িয়েছেন লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সোলেমান ও মেডিকেল অফিসার ডা. ফরহাদ হোসেন।
দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হাসপাতালে নিষ্ঠার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত চেম্বারেও রোগীদের প্রতি সহমর্মিতা ও আন্তরিক আচরণের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই দুই চিকিৎসক।
সম্প্রতি লামা বাজারে ডা. সোলেমানের ব্যক্তিগত চেম্বারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিনের মতো দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসংখ্য রোগী সেখানে ভিড় করেছেন। রোগীদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলা, ধৈর্য ধরে শারীরিক সমস্যার কথা শোনা এবং অমায়িক আচরণে মুগ্ধ হচ্ছেন সেবাপ্রার্থীরা।
চেম্বারে চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের প্রতি তার বিশেষ সহানুভূতি রয়েছে। রোগীর আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে অনেক অসহায় মানুষের কাছ থেকে তিনি প্রেসক্রিপশন ফি বা ভিজিট নেন না। প্রেসক্রিপশনের এক কোণে নীরবে ‘ফ্রি’ (F) চিহ্ন লিখে দেন। এরপর তার সহকারীও ওই রোগীর কাছ থেকে কোনো ফি নেন না। কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই নীরবে-নিভৃতে দরিদ্র ও অসচ্ছল রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান সময়ে চিকিৎসার ব্যয় যখন সাধারণ মানুষের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন একজন সরকারি চিকিৎসক হয়েও ব্যক্তিগত চেম্বারে এমন মানবিক আচরণ তাঁদের স্বস্তি দিচ্ছে। তাঁর আন্তরিকতা ও মানবিক উদ্যোগে উপকৃত হচ্ছেন পাহাড়ি এই জনপদের বহু দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ।
অন্যদিকে, লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। বিশেষ করে হতদরিদ্র, অসহায় ও অসচ্ছল রোগীদের কথা ধৈর্যসহকারে শুনে চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন ডা. সোলেমান ও ডা. ফরহাদ হোসেন। রোগীর সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিজেদের সাধ্যমতো সহযোগিতা করতেও তাঁরা পিছপা হন না।
চিকিৎসা নিতে আসা স্থানীয় এক রোগী নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “শুধু একজন সরকারি চিকিৎসকই নন, বরং তারা ভালো মনের মানুষ। অসহায় মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো ও আন্তরিক ব্যবহার সেবাপ্রার্থীদের মধ্যে নতুন আশা জাগায়। লামাবাসীর চিকিৎসাসেবায় তাদের এই ভূমিকা সত্যিই অনুকরণীয়।”
স্থানীয়দের মতে, বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্যসেবা নিতে গিয়ে যখন মানুষ নানা ভোগান্তির শিকার হন, সেখানে ডা. সোলেমান ও ডা. ফরহাদ হোসেনের মতো মানবিক চিকিৎসকের উপস্থিতি লামার মানুষের জন্য আশার আলো। তাদের মতো চিকিৎসক দেশের প্রতিটি হাসপাতালে থাকলে সাধারণ মানুষ আরও মানবিক ও সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা পাবে।
স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ এই দুই চিকিৎসকের সুস্থতা, দীর্ঘায়ু ও ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেছেন, যাতে তারা আমৃত্যু সাধারণ ও অসহায় মানুষের পাশে থেকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যেতে পারেন।
কেকে/সাশ