সোনালী রঙের ধানের ভিড়ে এবার দেখা মিলেছে ব্যতিক্রমী কালো ধানের সমারোহ। কুড়িগ্রামের রাজারহাট ইউনিয়নের বোতলার পাড় গ্রামে এক বিঘা জমিতে ‘ব্ল্যাক রাইস’ বা কালো ধানের চাষ করেছেন কৃষক আজমল কবির মনি। প্রায় দেড় মাস আগে জমিতে এ ধানের চাষ শুরু করেন তিনি। নতুন জাতের এ ধান দেখতে স্থানীয়দের মধ্যেও তৈরি হয়েছে দারুন কৌতূহল।
জানা যায়, ব্যতিক্রম কিছু করার আগ্রহ থেকেই তিনি এক বিঘা জমিতে কালো ধানের চাষ করেছেন। ধানের বীজ অনলাইনে দেখে আগ্রহ হয়েছে। পরবর্তী অনলাইন থেকে অর্ডার দিয়ে নিয়ে এসে জমিতে লাগিয়েছিন তিনি।
কৃষক আজমল কবির মনি জানান, বাপ দাদা সারাজীবন দেশীয় বীজ দিয়ে ধান চাষ করে আসছেন। আমি ভিন্ন চিন্তা থেকে ব্লাক রাইস ধান লাগিয়েছি। এলাকার অনেকেই এ জাতীয় ধান লাগাতে নিষেধ করেছেন। তবুও তাদের কথা উপেক্ষা করে লাগিয়েছি। আশা করছি ফলন ভালো হবে। ভালো ফলন পেলে পরবর্তী বেশি পরিমাণে লাগানোর চিন্তা আছে।
স্থানীয় কৃষক দেলোয়ার মিয়া (৬৫) জানান, এ ধরনের ধান আমাদের রাজারহাটে আগে দেখা যায়নি। তবে যদি ফলন ভালো হয় এবং বাজার মূল্য ভালো পাওয়া যায় তাহলে পরের মৌসুমে ব্লাক রাইস ধান চাষ করবেন বলে জানান তিনি।
অপর কৃষক মোসলেম উদ্দিন (৫৫) বলেন, হামরা (আমরা) বাবা বয়স্ক মানুষ। হামার (আমার) বাপ (বাবা) দাদা যে বীজ দিয়া (দিয়ে) জমিত ধান চাষ করছে সেই ভাবেই চাষ করমো (করবো)।’
পুষ্টিবিদদের মতে ব্লাক রাইস বা কালো ধানের চাল সাধারণত কালচে বা গাঢ় বেগুনি রঙের হয়ে থাকে। এর বাইরের স্তরে অ্যান্থোসায়ানিন নামের প্রাকৃতিক রঞ্জক থাকে, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া কালো চালে খাদ্য আঁশসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এ কারণে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যে কালো চাল নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে।
তবে কালো চালকে কোনো রোগের চিকিৎসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অন্যান্য চালের মতো এটিও পরিমাণ বুঝে খেতে হয়। সুষম খাদ্য তালিকার অংশ হিসেবে কালো চাল গ্রহণ করা যেতে পারে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, নতুন কোনো জাতের ধান চাষের ক্ষেত্রে ফলন, উৎপাদন খরচ,রোগ বালাইয়ের প্রকোপ, স্থানীয় আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা এবং বাজারদর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ সব দিক ইতিবাচক হলে কালো ধান কৃষকদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
রাজারহাট উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় জানান, ব্লাক রাইস বা কালো ধান বিঘায় ১৭-১৮ মণ হয়। ফলন কম হলেও বাজারদর প্রতি মণ আনুমানিক ১৫০০-১৬০০ টাকা হওয়ায় কৃষক পোষাতে পারেন।
এ ছাড়াও এটি চাষ করতে প্রচিলত চাষাবাদ ব্যবস্থাই যথেষ্ট। পুষ্টি গুণে ভরপুর হওয়ায় অনেক কৃষক এখন সৌখিনভাবে এটি চাষাবাদ করছেন বলে জানা গেছে।
কেকে/এআই