পার্বত্য জেলা বান্দরবানে সশস্ত্র সংগঠনের সদস্যদের চাঁদা দাবি ও নিরাপত্তার শঙ্কায় বন্ধ রয়েছে বান্দরবান-থানচি সড়কে গণপরিবহন চলাচল। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এই সড়কে যাতায়াতকারী চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, পর্যটকসহ সাধারণ যাত্রীরা।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে বান্দরবান-থানচি বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গত কয়েকদিন কয়েকটি বাস চলছেও। গতকাল রোববার (১০ অক্টোবর) ও আজ থেকে পুরোপুরি বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
তবে কারা চাঁদা দাবি করেছেন, কত টাকা দাবি করেছে, সে বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি নুরুল আমিন।
চাঁদা দাবি ও নিরাপত্তার শঙ্কায় বাস বন্ধ থাকায় বাসগুলো পড়ে রয়েছে স্টেশনে আর বাস চালক ও শ্রমিকের অলস সময় কাটাছে।
বান্দরবান-থানচি সড়কের লাইনম্যান মংসিংনু মারমা জানান, বান্দরবান থেকে থানচিগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের চালকের মোবাইল ফোনে একটি চক্র চাঁদা দাবি করে। এই ঘটনার পর চালকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার শঙ্কায় তারা বাস চালাতে অনীহা প্রকাশ করে।
পরিবহন মালিক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বয় না হওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল স্বাভাবিক করা কঠিন বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে বান্দরবান থেকে থানচি সড়কে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি ভোগান্তীতে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা। বাস বন্ধ থাকায় বিকল্প হিসেবে চাঁদের গাড়ি (জিপ) ভাড়া করে থানচি যেতে হচ্ছে পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীদের। এতে তাদের গুনতে হচ্ছে স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ টাকা।
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা থেকে থানচি যেতে বাসস্টেশনে অপেক্ষারত পর্যটক মো. মহসিন বলেন, ‘আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে বান্দরবান আসলাম বেড়াতে। থানচি যাব দুই দিনের ট্যুারে। কিন্তু স্টেশনে কোন বাস ছাড়ছে না। আমাদের এই দুর্ভোগ কবে কমবে জানি না।’
চাঁদের গাড়ি (জিপ) চালক মো.সুমন বলেন, ‘বাস বন্ধ থাকায় বিকল্প হিসেবে থানচি সড়কে চাঁদের গাড়ি (জিপ) চলাচল করছে। প্রতি গাড়িতে ১২-১৩জন যাত্রী যেতে পারছে আর ভাড়া জনপ্রতি ৬০০টাকা করে নিতে হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদেরও ভয় লাগছে। তবু জীবনের তাগিদে ছুটে চলছি।’
এদিকে থানচি সড়কে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ পারভেজ।
কেকে/এমএ