গত ১০ অক্টোবর দিল্লির জন্তর মন্তরে যা ঘটল, সেখান থেকেই শুরু করা যাক। সেখানে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সমাবেশ শুরুর আগেই তা কার্যত অচল করে দেওয়া হলো। আন্দোলনের তিন নেতা অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে বিমানবন্দরে আটক করা হলো। বিক্ষোভস্থলে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হলো। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকেও অল্প সময়ের জন্য আটক করা হলো। এতে সরকার থেকেও বার্তা এলো : এই আন্দোলনকে হালকাভাবে নেওয়া হচ্ছে না।
অথচ ঠিক এই ইস্যুতে, অর্থাৎ ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রশ্নে, বছর খানেক আগে বিহারের ভোটাররা বিরোধীদের পাশে দাঁড়াননি। এই বৈপরীত্যের মধ্যেই হয়তো আন্দোলনটির ভবিষ্যৎ বোঝার চাবি লুকিয়ে আছে। ৩ মে অনুষ্ঠিত হয়েছিল চিকিৎসা শিক্ষার প্রবেশিকা নিট-ইউজি। এক লাখের কিছু বেশি আসনের জন্য পরীক্ষা দিয়েছিলেন প্রায় সাড়ে বাইশ লাখ প্রার্থী। সুযোগ যেখানে এত সীমিত, সেখানে একটি পরীক্ষা ফাঁস হওয়ার অর্থ লাখ লাখ পরিবারের বছরের পর বছরের প্রস্তুতি আর খরচ এক মুহূর্তে অনিশ্চয়তায় পড়ে যাওয়া।
আন্দোলনের মূল দাবি তাই দাঁড়াল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। মোদি প্রশ্নফাঁসের মামলার দ্রুত বিচারের জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের ঘোষণা দিলেও আন্দোলনকারীরা তাকে মনোযোগ ঘোরানোর কৌশল বলে খারিজ করে দেন। ৩৫ দিনের টানা আন্দোলনের পর ২৫ জুলাই প্রধান পদত্যাগ করেন। বারো বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা নরেন্দ্র মোদির জন্য এটি ছিল বিরল রাজনৈতিক ধাক্কা।
তবে প্রশ্নফাঁস এ আন্দোলনের স্ফুলিঙ্গ মাত্র। জ্বালানির উৎস আরও গভীরে এবং তা সম্ভবত অর্থনৈতিক। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সিদের বেকারত্বের হার পৌঁছেছে ১৬ দশমিক ২ শতাংশে। মাসিক তথ্য সংগ্রহ শুরুর পর এটি সর্বোচ্চ। ২০২৫ সালের এপ্রিলে এ হার ছিল ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ। একই সময়ে তরুণদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে নেমে এসেছে ৪০ দশমিক ৩ শতাংশে। কথাটির মানে হলো, অনেকে কাজ খোঁজাই ছেড়ে দিয়েছেন, তবু বেকারত্ব বাড়ছে। শ্রমবাজারের জন্য এটি বিশেষভাবে খারাপ লক্ষণ। সরকারপক্ষ ও আন্দোলনপক্ষ উভয়েই সুবিধামতো সংখ্যা বেছে নেবে, এটা মেনে নিয়েই এগোতে হবে। তবে সব পদ্ধতিতেই প্রবণতা একই দিকে যাচ্ছে : শিক্ষিত তরুণের জন্য নিরাপদ চাকরি কমছে, আর সরকারি চাকরি ও মেডিকেল সিট ঘিরে প্রতিযোগিতা প্রাণান্তকর হয়ে উঠছে।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর আন্দোলন থেমে যায়নি, বরং ক্ষেত্র বদলেছে। লক্ষ্য এখন ভোটার তালিকা। নির্বাচন কমিশনের ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ বা এসআইআর হলো ভোটার তালিকা নতুন করে যাচাই করার একটি প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১৩ কোটির বেশি নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এতে বিপুলসংখ্যক যোগ্য ভোটার ভোটাধিকার হারিয়েছেন, আর বাদ পড়াদের মধ্যে বিরোধী শিবিরের সমর্থক বেশি। কমিশন ও সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করছে। তাদের বক্তব্য, উদ্দেশ্য কেবল দ্বৈত ও অযোগ্য নাম সরানো। আন্দোলনের এখনকার দাবি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ।
এই বদলটি কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ। কেননা, প্রশ্নফাঁস ছিল একটি খাতভিত্তিক ক্ষোভ, যার নিষ্পত্তি একজন মন্ত্রীর পদত্যাগেও হতে পারত। কিন্তু ভোটাধিকারের প্রসঙ্গটি কাঠামোগত। নির্বাচনি ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা কতটা অবশিষ্ট আছে, এই আন্দোলন সেটিকেই কার্যত পরীক্ষার মুখে ফেলছে। রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়াও সেই কারণে কঠোর হচ্ছে। অক্টোবরের শুরু থেকেই তার চেহারা দেখা গেছে। ২ অক্টোবর দিল্লিতে ১৬৩ ধারা জারি হয়, বিক্ষোভস্থলের আশপাশে অন্তত ১১টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়, আর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আতিশীসহ পাঁচ শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে খবর আসে। আন্দোলনের মুখপাত্র দাবি করেছেন, সারা দেশে অন্তত ১০ হাজার মানুষ আটক হয়েছেন। সরকারের ভঙ্গি থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট : মোদি সরকার আন্দোলনকে হালকা ঘটনা ভাবছে না, আবার আলোচনার টেবিলেও আনতে চাইছে না।
এখন মূল বিষয়টি হলো, এ আন্দোলন শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকতে পারে। এর উত্তর খুঁজতে ভারতের নিজের ইতিহাসের দিকে একটু তাকানো দরকার। ১৯৭৪ সালে গুজরাটে হোস্টেলের খাবারের দাম বাড়ানো নিয়ে শুরু হওয়া নবনির্মাণ আন্দোলন মুখ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দিয়েছিল। বিহারে সেই আগুন জয়প্রকাশ নারায়ণের নেতৃত্বে আরও বড় আকার নিল। এল জরুরি অবস্থা, আর ১৯৭৭ সালে ইন্দিরা গান্ধী ক্ষমতা হারালেন। কিন্তু সেই জনতা সরকার টিকল মাত্র কয়েক বছর, আর তার একটি উপাদান পরে জন্ম দিল বিজেপিকে। অর্থাৎ আন্দোলনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ফসল ঘরে তুলল এমন একটি শক্তি, যার কথা আন্দোলনকারীরা তখন ভাবেননি।
আমাদের দিক থেকে আরও প্রাসঙ্গিক আসামের ছাত্র আন্দোলন (১৯৭৯-৮৫)। সেটি শেষ হয়েছিল আসাম চুক্তিতে, আর ছাত্রনেতারা দল গড়ে ক্ষমতায়ও এসেছিলেন। কিন্তু আন্দোলনের কেন্দ্রে ছিল ‘বহিরাগত’ প্রশ্ন, যার উত্তরাধিকার আজও নাগরিকত্ব তালিকা ও সীমান্তের রাজনীতিতে বহাল। ২০১১ সালের আন্না হাজারে আন্দোলনের হিসাবও তেমনই জটিল। তা থেকে জন্ম নিয়েছিল আম আদমি পার্টি, অথচ অনেক বিশ্লেষকের মতে সেই দুর্নীতিবিরোধী আবহ ২০১৪ সালে বিজেপির পথও সহজ করে দিয়েছিল।
২০১৯-২০ সালের নাগরিকত্ব আইনবিরোধী আন্দোলন ছিল বিশাল, তবু আইন বদলায়নি, আর দিল্লির দাঙ্গা ও কোভিডের ধাক্কায় তা স্তিমিত হয়ে যায়। এই দীর্ঘ তালিকায় স্পষ্ট সাফল্য বলতে কৃষক আন্দোলন (২০২০-২১)। তারা প্রায় এক বছর দিল্লির সীমান্তে বসে থেকে তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করিয়ে ছেড়েছিলেন। তবে তাদের পেছনে ছিল গ্রামীণ সংগঠন, ফসলের অর্থনীতি আর দীর্ঘ প্রস্তুতি। তেলাপোকা আন্দোলনের বয়স এখনো মাত্র পাঁচ মাস, আর তার ভিত্তি অনেক বেশি অনলাইনভিত্তিক ও শহুরে। এ প্রেক্ষাপটে এবার বিহারের ধাঁধায় ফেরা যায়।
২০২৫ সালে বিহারে এসআইআর শুরু হলে কমিশনের নিজের হিসাবেই খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল ৬৫ লাখ নাম। এর মধ্যে ২২ লাখের বেশি মৃত, ৩৬ লাখের বেশি স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া বা অনুপস্থিত, আর ৭ লাখের বেশি একাধিক জায়গায় নিবন্ধিত। তবু নির্বাচনের ফল গেল ভিন্ন দিকে। এনডিএ ২৪৩ আসনের মধ্যে ২০২টি জিতল, যা ২০১০ সালের পর তাদের সবচেয়ে বড় জয়। কংগ্রেস পেল মাত্র ছয়টি আসন। এর একটি কারণ হতে পারে আদালতের ভূমিকা। সুপ্রিম কোর্ট আধারকে ১২তম গ্রহণযোগ্য নথি হিসেবে মানতে নির্দেশ দিয়েছিল, ফলে প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি বিনা তদারকিতে চলেনি।
একটি আইনি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৭ মে সুপ্রিম কোর্ট কমিশনের এসআইআর চালানোর ক্ষমতা বহাল রেখেছে, তবে নোটিশ ও কারণ ছাড়া নাম বাদ না দেওয়া এবং আপিলের সুযোগের মতো রক্ষাকবচ জুড়ে দিয়েছে। আরেকটি কারণ হতে পারে এই যে, বাদ পড়াদের বড় অংশ মৃত বা স্থানান্তরিত মানুষ হওয়ায় সাধারণ ভোটার একে অন্যায্য মনে করেননি।
পশ্চিমবঙ্গের ছবি আরও জটিল। ২০২৬ সালের এপ্রিলের নির্বাচনে বিজেপি ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৭টি জিতেছে, ভোটের হার ৪৬ শতাংশ। তৃণমূল পেয়েছে ৮০ আসন ও ৪১ শতাংশ ভোট। নির্বাচনের আগে এসআইআরে ৯০ লাখের বেশি ভোটারের নাম বাদ গেছে। বিজেপি যে আসনগুলো জিতেছে, তার ১০৫টিতে বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যা জয়ের ব্যবধানের চেয়ে বেশি।
তবু সিঙ্গাপুরের ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের বিশ্লেষণ বলছে, এসআইআর না হলেও গণরায়ের মূল চরিত্র সম্ভবত বদলাত না। দুটি কথা একসঙ্গে সত্য হতে পারে। কিছু আসনে বাদ পড়া নাম ফল বদলে দিতে পারত, আবার বিজেপির সমর্থনের উত্থানও বাস্তব ছিল। আন্দোলনের জন্য এই বাস্তবতা কঠিন, কারণ তার হাতে এমন কোনো সহজ গল্প নেই যা পুরো ফলকে এসআইআরের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে পারে।
এ পর্যন্ত পড়ে কেউ ভাবতে পারেন, ঢাকার জুলাই বা কাঠমান্ডুর মতো কিছু ভারতেও ঘটতে পারে। ব্যক্তিগতভাবে আমার তা মনে হয় না। কারণ, ওইসব জায়গায় ক্ষমতার কোনো না কোনো খুঁটি ভেঙেছিল। ঢাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থান বদলেছিল, কলম্বোয় অর্থনৈতিক পতন সরকারকে অচল করে দিয়েছিল, কাঠমান্ডুতে শাসক মহলের ভেতরের ভাঙন ও সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষতা ভূমিকা রেখেছিল।
ভারতে এর কোনোটিরই লক্ষণ এখনো নেই। পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন ২০২৯ সালে, আর সরকারের সাংবিধানিক বৈধতা প্রশ্নাতীত। ২০২৪ সালে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে মিত্রনির্ভর হয়েছে, কিন্তু সেই মিত্রদের ভাঙনের কোনো ইঙ্গিত এখনো দেখা যাচ্ছে না। তার ওপর ভারত বিশাল, যুক্তরাষ্ট্রীয় ও বহুভাষিক দেশ। একটি শহর দখল করে কেন্দ্রকে অচল করে দেওয়া সেখানে প্রায় অসম্ভব।
তাহলে সামনে কী? আপাতত তিনটি সম্ভাব্য পথ দেখা যায়। প্রথমটি প্রাতিষ্ঠানিক শোষণ, অর্থাৎ আন্দোলনের শক্তি ধীরে ধীরে নির্বাচনি রাজনীতিতে ঢুকে পড়বে। কেউ জোট বাঁধবেন, কেউ নিজস্ব প্রার্থী দেবেন। আগামী বছর উত্তর প্রদেশ ও গুজরাটের বিধানসভা নির্বাচন হবে, আর সেটিই হবে তাদের প্রথম বাস্তব পরীক্ষা। দ্বিতীয়টি দমন ও বিভাজন, যেখানে আটক, মামলা ও ইন্টারনেট বন্ধের ক্লান্তিতে আন্দোলন ছোট ছোট গোষ্ঠীতে ভেঙে যাবে।
তৃতীয়টি উত্তরণ, যার জন্য কোনো বড় ঘটনা লাগবে : আন্দোলনকারীর মৃত্যু, অর্থনৈতিক ধাক্কা, কিংবা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আদালতের কঠোর রায়। এই তৃতীয় পথের সম্ভাবনা এখনো পর্যবেক্ষণের বিষয়। এর বাইরে কয়েকটি সূচক নজরে রাখা দরকার : গ্রামীণ ও সংখ্যালঘু ভোটারদের যোগদান, নিরাপত্তা বাহিনী ও মিত্র দলগুলোর আচরণ, আর সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান। এই সূচকগুলো দেখলেই বোঝা যাবে আন্দোলনের গতিপথ কোন দিকে মোড় নিচ্ছে।
এবার আসি আমাদের নিজেদের প্রশ্নে, কারণ ভারতের এই টানাপোড়েন ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম কথা পশ্চিমবঙ্গ। বিজেপির জয়ের পর শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। আমাদের সঙ্গে সবচেয়ে দীর্ঘ স্থলসীমান্ত যে রাজ্যের, নদীর প্রশ্নে সবচেয়ে বেশি দরকষাকষি যার সঙ্গে, সেখানে দিল্লি আর কলকাতা এখন একই সুরে কথা বলছে। তিস্তা চুক্তি দীর্ঘদিন আটকে ছিল মূলত মমতা ব্যানার্জির আপত্তিতে। সেই বাধা সরে যাওয়ায় সুযোগ বেড়েছে, কিন্তু সীমান্তে পুশ-ইন ও অনুপ্রবেশকারী-রাজনীতি তীব্র হওয়ার ঝুঁকিও বেড়েছে।
দ্বিতীয় কথা ডিসেম্বরের গঙ্গা চুক্তি। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নবায়ন-সংক্রান্ত আলোচনা বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক কাঠামোর মধ্যেই হবে। এর আগে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এই চুক্তি নবায়নের ওপর নির্ভর করে। ফারাক্কা বাঁধ পশ্চিমবঙ্গে, অর্থাৎ আলোচনা চলবে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের ভেতরেই। অস্থির ঘরোয়া পরিস্থিতিতে দিল্লি নমনীয় হবে, না কঠোর, তা নির্ভর করবে সে এই আন্দোলনকে কীভাবে সামলায় তার ওপর। আমার ধারণা, জাতীয়তাবাদী আবহ সরকারের জন্য নিরাপদ আশ্রয় বলে কঠোরতার সম্ভাবনাই বেশি। তবে এটি অনুমান মাত্র।
শেষে আরেকটি কথা আমাদের নিজেদের জন্য। জুলাইয়ের পর আমরা দেখেছি, দাবি আদায় আর রাষ্ট্র পরিচালনার মধ্যে ফারাক কত বিশাল। ভারতের তরুণেরা সেই পরীক্ষার সামনে এখনো দাঁড়ায়নি, তাই ‘বিপ্লব’ শব্দটি এই আন্দোলনের জন্য অকালপক্ক। তবু একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন পেজ থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদত্যাগ, আর সেখান থেকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী অভিযানে পৌঁছে যাওয়া। এখন আগমীতে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা হয়তো সময়ই বলে দিবে। তবে ভারতের তরুণ প্রজন্ম আর নীরব দর্শক হয়ে থাকতে রাজি নয়, সেটা আপাতত স্পষ্ট।
লেখক : কলামিস্ট ও গবেষক
কেকে/ এমএস