সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬,
২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে করের ৬৬৬ কোটি টাকা দিতে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ      ● দুইদিন বন্ধ থাকবে এলপিজি সিলিন্ডারের দোকান       ● জানুয়ারিতে শুরু ইউপি নির্বাচন, পাঁচ ধাপে হবে শেষ      ● জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চায় বাংলাদেশ      ● আজও রিয়াদগামী ২ ফ্লাইট বাতিল, তিন দিনে সংখ্যা ৯      ● রিয়াদে হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশি, দূতাবাসের উদ্যোগ      ● চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কঠোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর      
জাতীয়
কৃষক থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ করবে সরকার : খাদ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫২ পিএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবমুক্ত রেখে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করতে হবে উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, ‘কৃষক যাতে সহজে ও বিনা হয়রানিতে সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে পারে, সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ জন্য প্রাথমিকভাবে তিনটি জেলায় পাইলট প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য জেলাতেও এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।’

সোমবার (১২ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগ আয়োজিত জেলার খাদ্য বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় মন্ত্রী আরও বলেন, ‘কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। কৃষকদের ব্যাংক হিসাব খোলা কিংবা অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সমস্যায় পড়তে হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ধান সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরো সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বিকাশের মতো মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে কৃষকদের অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা বিবেচনা করা হবে। এর মাধ্যমে কৃষকেরা যেন তাদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য পান, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’

‘সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং জনগণের ঘরে সময়মতো নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার রয়েছে। সরকার সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে। খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব হলো সততা, নিষ্ঠা ও কর্তব্যবোধের সঙ্গে কাজ করে সরকারের এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখা।’

খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছরে যেসব সমস্যা জমে উঠেছে, সেগুলোর সমাধানে কিছুটা সময় প্রয়োজন। কর্মকর্তাদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। তবে সব সমস্যা একসঙ্গে সমাধান করা সম্ভব নয়। জনগণের স্বার্থে কোন সমস্যাগুলো সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য, তা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় প্রত্যেককে সততা ও জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী যে লক্ষ্য নিয়ে সরকার পরিচালনা করছেন, তা বাস্তবায়নে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। কর্মকর্তাদের কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব সমস্যার বিষয়ে তাদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

খাদ্যশস্যের গুণগত মান বজায় রাখা এবং পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বারোপ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাল ও গমের মানসম্মত মজুদ গড়ে তোলা জরুরি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা যেকোনো সংকট মোকাবিলায় পর্যাপ্ত খাদ্যশস্যের মজুদ থাকতে হবে।’

বর্তমানে মজুদ পরিস্থিতি সন্তোষজনক থাকায় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান এবং আমদানির মাধ্যমে আসা চালসহ সব খাদ্যশস্য গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত গুণগত মান বজায় রাখার আহ্বান জানান। 

‘কোনো চাল বা খাদ্যশস্য নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ না করলে তা গ্রহণ করা যাবে না। খাদ্যশস্যের মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যথাযথভাবে পালন করতে হবে, যাতে পরবর্তী সময়ে কোনো অনিয়ম বা অভিযোগের সৃষ্টি না হয়।’

খাদ্যশস্য বিতরণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বিতরণ করা খাদ্যশস্যের প্যাকেটে নির্ধারিত বিতরণ সংক্রান্ত সিল অবশ্যই দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা করা যাবে না। বিতরণের সঠিক প্রমাণ থাকলে খাদ্য অধিদপ্তরের দায়িত্বের সীমা নির্ধারণ এবং বিতরণ পরবর্তী অনিয়মের ক্ষেত্রে দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সহজ হবে।’

তিনি উল্লেখ করেন, খাদ্য বিভাগের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহি করতে হয় এবং বিতরণ কার্যক্রমের প্রতিটি ধাপে প্রয়োজনীয় নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। সরকারি খাদ্যশস্য যাতে নির্ধারিত উপকারভোগীদের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে হবে।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর উপাদানের ব্যবহার মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। বিশেষ করে শিশুদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। খাদ্যপণ্য, দুধ, জুস ও অন্যান্য ভোগ্যপণ্যে ক্ষতিকর উপাদানের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয় বরং এটি মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।এ বিষয়ে নজরদারি আরো জোরদার করতে হবে। বর্তমানে খাদ্য পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকলেও ভবিষ্যতে দেশের ৬৪ জেলায় খাদ্য পরীক্ষার জন্য যানবাহন সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষা করা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার কার্যক্রম আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।’

খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তারা জনগণের প্রকৃত চাহিদা ও সমস্যাগুলো সবচেয়ে ভালোভাবে বুঝতে পারেন। তাই তাদের অভিজ্ঞতা, পরামর্শ ও কার্যকর উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।’ 

কর্মকর্তাদের কোনো ভালো পরামর্শ থাকলে তা সরাসরি তাকে জানানোর আহ্বান জানান। 

‘মন্ত্রণালয় ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে কোনো দূরত্ব থাকা উচিত নয়। সবাইকে সহকর্মী হিসেবে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কর্মকর্তাদের যৌক্তিক সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। যেসব সমস্যা মন্ত্রণালয়ের একক উদ্যোগে সমাধান করা সম্ভব হবে না, সেগুলো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। কর্মকর্তাদের কর্মপরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধার উন্নয়ন হলে তাঁরা আরো মনোযোগ ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবে।’

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মু. জসীম উদ্দিন খান, খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জামাল হোসেন সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। 

উল্লেখ্য, সভা শেষে খাদ্যমন্ত্রী চট্টগ্রাম নগরীর জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন।

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম   ধান সংগ্রহ পাইলট প্রকল্প   কৃষকের ন্যায্যমূল্য   চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস   বিকাশ মোবাইল ব্যাংকিং   নিরাপদ খাদ্য   চালের মজুদ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close