গাজীপুর বন বিভাগের দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কায়দায় সরকারি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত বনকর্মীর নাম সমীর সুর চৌধুরী। তিনি ঢাকা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের অধীন গাজীপুরের ভাওয়াল রেঞ্জের বারুইপাড়া বিট অফিসে কর্মরত। তার কর্মকাণ্ডে সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে কাজ করছেন একই বিট অফিসের বুলবুল মোল্লা। এই দুই কর্মচারী জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট পদে কর্মরত। অভিযোগ উঠেছে, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এই দুই কর্মচারী বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর পেপসি গেট এলাকার বাসিন্দা মোবারক হোসেন। তিনি ওই এলাকার ইউছুপ আলী মোড়লের ছেলে। মোবারক হোসেন বন বিভাগের একজন উপকারভোগী সদস্য। সম্প্রতি বারুইপাড়া বিটের অধীন জানাকুর এলাকায় একটি চক্র বনের ১৭টি আকাশমণি গাছ কেটে ফেলে। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাটা গাছ উদ্ধারের পরিবর্তে সেগুলো বিক্রি করে দেন সমীর সুর চৌধুরী ও বুলবুল মোল্লা। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানান বন বিভাগের উপকারভোগী সদস্য মোবারক হোসেন।
মোবারক হোসেন জানান, সরকারি গাছ বিক্রিতে বাধা দিলে সমীর সুর চৌধুরী ও বুলবুল মোল্লা তার ওপর ক্ষিপ্ত হন। পরে ঘটনাটি বারুইপাড়া বিট কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলামকে জানাতে তিনি বিট অফিসে যান। বিট অফিসে গেলে সেখানকার কেচি গেট বন্ধ করে তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখেন সমীর সুর চৌধুরী।
তিনি আরও বলেন, বারুইপাড়া বিট অফিসে থাকা সরকারি আগ্নেয়াস্ত্র তার বুকে ঠেকিয়ে গুলি করার প্রস্তুতি নেন সমীর সুর চৌধুরী। তার চিৎকার শুনে অন্য কর্মচারীরা এসে তাকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনার পর থেকে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে ভাওয়াল রেঞ্জের ভবানীপুর বিট কর্মকর্তা নাসির হোসেন স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে ঘটনার মীমাংসার চেষ্টা করেন। তবে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
এ ব্যাপারে বারুইপাড়া বিট কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘সমীর সুর চৌধুরী কাজটি ভালো করেননি।’ তিনি জানান, স্থানীয় পর্যায়ে কয়েক দফায় বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত কর্মচারী সমীর সুর চৌধুরীকে বারুইপাড়া বিট অফিস থেকে বদলি করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে তাকে বদলি করার ক্ষমতা তাঁর নেই। বদলির আদেশ দিতে পারেন একমাত্র বিভাগীয় বন কর্মকর্তা। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বদলির আদেশ না দিলে তিনি অসহায় বলেও জানান।
ঢাকা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী বলেন, মোবারক হোসেনের বুকে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনা তার জানা নেই। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভাওয়াল রেঞ্জের অধীন বনাঞ্চলে গাছ কাটা, বনের ভেতর রাস্তা নির্মাণ, ঘরবাড়ি তৈরি এবং বিভিন্ন ধরনের বন অপরাধে দীর্ঘদিন ধরে সহায়তা করে আসছেন সমীর সুর চৌধুরী ও বুলবুল মোল্লা। বদলি নীতিমালা লঙ্ঘন করে সমীর সুর চৌধুরীকে ১৫ বছর ধরে একই কর্মস্থল গাজীপুরে রাখা হয়েছে। একইভাবে বদলি নীতিমালা লঙ্ঘন করে বুলবুল মোল্লাকেও বছরের পর বছর একই কর্মস্থলে রাখা হয়েছে। এই কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বন অপরাধে সহায়তার অভিযোগ উঠলেও বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নীরব ভূমিকা পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে সমীর সুর চৌধুরী বলেন, মোবারক হোসেনের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হয়েছে। তিনি ১৫ বছর ধরে গাজীপুরে চাকরি করছেন বলেও জানান।
এ বিষয়ে জানতে বুলবুল মোল্লার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
কেকে/ এমএস