বান্দরবানের লামা উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ইসলামের সঠিক দাওয়াত, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক সচেতনতা প্রসারে কাজ করে যাচ্ছেন তরুণ আলেম মুফতি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ সাদেকী। প্রথাগত ধর্মীয় পাঠদানের পাশাপাশি তরুণ সমাজকে সুপথে পরিচালিত করা এবং বেকারত্ব দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তিনি ইতোমধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের গত ১৯ নভেম্বর ২০২৫ ইং লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয়ে পাঁচ সদস্যের নিয়োগ কমিটি ও বিচারকদের তত্ত্বাবধানে নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজিত হয়। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ এই পরীক্ষায় সকল প্রার্থীকে পেছনে ফেলে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করেন মুফতি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ সাদেকী। পরবর্তীতে ১ মার্চ তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে লামা মডেল মসজিদের পেশ ইমাম হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
শিক্ষাজীবনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানের শীর্ষস্থানীয় কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এই মেধাবী আলেম। দাওরায়ে হাদিসে চট্টগ্রামের বিখ্যাত জামিয়া জিরি থেকে কৃতিত্বের সাথে (স্টার মার্ক) পাস করেন। রাজধানী ঢাকার বসুন্ধরা ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ থেকে উচ্চতর হাদিস গবেষণায় (স্টার মার্ক) বিশেষ যোগ্যতা অর্জন করেন। একই গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বসুন্ধরা ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার) থেকে ফতোয়া ও ইসলামী আইনে (স্টার মার্ক) বিশেষায়িত ডিগ্রি লাভ করেন। জামিয়া জিরি পটিয়া থেকে ক্বিরাআতে মুজাওওয়াদ কোর্সে (স্টার মার্ক) উত্তীর্ণ হন। এছাড়া ইসলামিক অর্থনীতিতেও বিশেষ জ্ঞান অর্জন করেছেন।
লামায় যোগদানের আগে তিনি দেশের বিভিন্ন নামকরা দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।শিক্ষা সচিব, মুফতি ও মুহাদ্দিস জামিয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া, সাভার, ঢাকা।শিক্ষা সচিব, মুফতি ও মুহাদ্দিস আল আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা, লক্ষ্মীপুর সদর।পরিচালক (মুহতামিম) জামিয়া দারুস সুন্নাহ, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ।
ইসলামী শিক্ষাঙ্গনে তার রচিত ও গবেষণামূলক একাধিক বই ও থিসিস ইতোমধ্যে সুধী মহলে সমাদৃত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ:আহকামুল ফরায়েজ (ইসলামী উত্তরাধিকার আইন ও বণ্টন সংক্রান্ত),শিরকায়ে বাতেলা (ব্যবসায়িক অবৈধ চুক্তি ও সমকালীন অর্থনীতি বিষয়ক),সালাতুল হানাফিয়া (হানাফি মাযহাবের আলোকে সালাতের দলিল ভিত্তিক বিশ্লেষণ)।
যুবসমাজকে গঠন ও সামাজিক ভূমিকা নিয়ে
লামা উপজেলা মডেল মসজিদে নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি স্থানীয় যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখা, নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করা এবং বেকারত্ব দূরীকরণে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। তরুণরা যাতে কেবল চাকরির পেছনে না ছুটে নতুন নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে, সে বিষয়ে তিনি নিয়মিত খুতবা ও সামাজিক আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে আসছেন। তার তথ্যবহুল তাফসীর আলোচনা, শ্রুতি মধুর উপস্থাপনা, স্বললিত কন্ঠে নামাজে কুরআনের তেলাওয়াত যে কাউকে বশীভূত করে তোলে। নিয়মিত তার আহ্বান ও তিলাওয়াত শুনে অনেকে নিয়মিত মুসল্লিতে পরিণত হয়। সবার সাথে হাস্যজ্জ্বল সালাম কালাম ও আলাপ-আলোচনার কারণে সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করছে। নিয়মিত মুসল্লিরা বলেন, হুজুরের পেছনে নামাজ পড়লে অন্তর অনেক প্রশান্তি লাভ করে।
মুফতি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ সাদেকী বলেন, ইসলামের শান্তির বাণী মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়া, ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করা,মাদকমুক্ত সমাজ গড়া এবং মানবকল্যাণে অবদান রাখার প্রত্যাশায়ী হোক আমার পথ চলার মূল প্রেরণা। মুফতি ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ সাদেকীর ধর্মীয় উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের এই প্রচেষ্টা লামা অঞ্চলে ইসলামি জ্ঞানচর্চা, নৈতিক উন্নয়ন এবং মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের।
কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানার অন্তর্গত ৩ নম্বর কৈয়ার বিল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড দ. খিলছাদক গ্রামে মুফতি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ সাদেকী জন্ম গ্রহণ করেন। জনাব আব্বাস আহমদের ৪ ছেলে ৫ মেয়ের মধ্যে তিনি ৭ম। সকলেই ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত।
কেকে/ এমএস