শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার হাটবাজারে বেড়েছে নারকেল ও গুড়ের চাহিদা। সেই সঙ্গে বেড়েছে দামও। পূজার প্রসাদ, নারকেলের নাড়ু, মোয়া, পায়েস ও সন্দেশ তৈরিতে এসব উপকরণের প্রয়োজন হওয়ায় বাজারে কেনাকাটা বেড়েছে। তবে বাড়তি দামে বিপাকে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের ক্রেতারা।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা যায়, দোকানে সারি সারি নারকেল সাজিয়ে রেখেছেন বিক্রেতারা। পূজার প্রয়োজনীয় উপকরণ কিনতে বাজারে আসছেন ক্রেতারা। তবে দাম শুনে অনেকে প্রয়োজনের তুলনায় কম কিনছেন, আবার কেউ কেউ না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।
বাজারে মাঝারি আকারের এক জোড়া নারকেল বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। বড় আকারের এক জোড়ার দাম চাওয়া হচ্ছে প্রায় ৩০০ টাকা। অন্যদিকে মানভেদে প্রতি কেজি আখের গুড় বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়।
ব্যবসায়ী ইউনুস আলী বলেন, ‘দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঝুনা নারকেল ও গুড়ের চাহিদা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও বেড়েছে। আকার ও মান অনুযায়ী প্রতি জোড়া নারকেল ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’
আরেক ব্যবসায়ী ওসমান গনি বলেন, ‘আড়তে নারকেলের দাম বেশি হওয়ায় খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। জয়পুরহাট, বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলা থেকে এসব নারকেল আনা হয়। ডাবের চাহিদা ও দাম বেশি থাকাও নারকেলের বাজারদরে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের ভাষ্য, দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় বেচাকেনা কমেছে।’
ক্রেতা সুধীর চন্দ্র বলেন, ‘নারকেল ছাড়া পূজার আয়োজন যেন পূর্ণতা পায় না। পূজা উপলক্ষে আত্মীয়স্বজন বাড়িতে আসেন। তাদের আপ্যায়নের জন্য মিষ্টিজাতীয় খাবার তৈরি করতে হয়, যার মধ্যে নারকেলের নাড়ু অন্যতম। তাই এ সময়ে চাহিদা ও দাম দুটোই বাড়ে।’
তিনি বলেন, ‘আশ্বিন-কার্তিক মাসে অনেক পরিবারের সংসারে টানাপোড়েন থাকে। তবু দুর্গাপূজায় প্রসাদ ও অতিথি আপ্যায়নের জন্য ফলমূল, মোয়া, নাড়ু ও নারকেল কিনতেই হয়। দাম বেশি হলেও প্রয়োজনের কারণে কিনতে হচ্ছে।’
ক্রেতা সুচিত্রা রানী বলেন, ‘পূজা চলছে। বাড়িতে বাচ্চারা আছে, অতিথি এলে তাদেরও আপ্যায়ন করতে হবে। তাই দুটো নারকেল কিনলাম।’
পূজার আনুষ্ঠানিকতায় নারকেল ও গুড়ের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ সময় এসব পণ্যের চাহিদা বাড়ে। তবে বাড়তি দামের কারণে ক্রেতাদের ব্যয় বাড়লেও বাজারে পণ্যের দাম কমার বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চয়তা নেই।
কেকে/সাশ