শরতের শুভ্র কাশফুল আর নীল আকাশের হাত ধরে প্রকৃতিতে এসেছে উৎসবের আমেজ। এরই মধ্যে ঘনিয়ে এসেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উৎসবকে ঘিরে নওগাঁর আত্রাইয়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। দিন-রাত পরিশ্রম করে প্রতিমায় দেওয়া হচ্ছে শেষ মুহূর্তের রং ও সাজসজ্জার কাজ। পাশাপাশি পূজামণ্ডপের সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, প্রতিমাশিল্পীরা কাদামাটি, বাঁশ, খড়, সুতলি ও রঙ-তুলি দিয়ে তাদের হাতের শৈল্পিক ছোঁয়ায় দেবী দুর্গার অবয়ব তৈরি করছেন। রাত-দিন এক করে দেবী দুর্গার পাশাপাশি নিপুণ হাতে গড়ে তোলা হচ্ছে কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী ও অসুরের প্রতিমা। প্রতিমা তৈরির কাজ এখন শেষ পর্যায়ে।
স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শিল্পীরা রং-তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলছেন তাদের নৈপুণ্য। প্রতিমার পাশাপাশি বাদ্যযন্ত্র ঠিক ও তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন ঢাক-ঢোল, কাঁশি ও বাঁশির কারিগররা।
দুর্গাপূজা নিয়ে স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা জানান, এটি তাদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে তারা আনন্দ, প্রার্থনা ও পারিবারিক মিলনমেলায় অংশ নেন। মা দুর্গার কাছে সবার সুখ, শান্তি ও মঙ্গল কামনা করে তারা উৎসবটি শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
আগামী ১-৫ অক্টোবর ৫ দিন ব্যাপী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীয় শিল্পী ছাড়াও বিভিন্ন স্থান থেকে আগত শিল্পীরা এখানে এসে প্রতিমা তৈরি ও রং তুলির কাজ করছেন। অন্যদিকে প্রতিমার পাশাপাশি বাদ্যযন্ত্র ঠিক ও তৈরি করতে ব্যস্ত সময় পার করছে ঢাক-ঢোল, কাঁশি ও বাঁশির কারিগররা। বৈশ্বিক করোনা মহামারি অনেকটা কম থাকায় মাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন সকল সনাতন ধর্মালম্বীরা।
প্রতিমা শিল্পী যুগোল কুমার জানান, ‘দুই-এক দিনের মধ্যে শুরু হবে রং তুলির আঁচড়। প্রতিমাগুলো মনোমুগ্ধকর ও নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়ে কাজ করছি। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হবে সকল প্রতিমা তৈরির কাজ।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম বাড়লেও ক্রেতারা প্রতিমার দাম বলছেন কম। বাধ্য হয়ে প্রতিমা বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে খুব একটা লাভের মুখ দেখছি না।’
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘প্রতিটি মণ্ডপে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নিরাপত্তার সঙ্গে যাতে পূজা উদযাপিত হতে পারে, সেজন্য প্রয়োজনীয় তদারকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।’
পূজাকে সামনে রেখে সম্ভাবনার কথা জানালেন আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহাবুন আলম। তিনি জানান, সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পূন্ন করার লক্ষে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ দৃষ্টি রাখছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তিন স্থরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) দের বিভিন্ন মন্ডপের দায়িত্ব দিয়ে নিয়মিত টহল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আশা করি এবারের পূজায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না। তবে এ জন্য তিনি সকলের সহযোগীতা কামনা করেন।
কেকে/এআই