রাজশাহী নগরীর বর্ণালীর মোড়ে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা সেন্টার পরিদর্শন করেছেন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার। এ সময় তিনি ভারতীয় ভিসা আবেদনকারীদের দালাল থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে ভিসা সেন্টার পরিদর্শনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
পরিদর্শনকালে তিনি ভিসার আবেদন করতে আসা ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের সমস্যার কথা শোনেন এবং সেবার পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজ নেন। এ সময় দালালের সহায়তা না নিয়ে নিজেদেরই নির্ধারিত নিয়মে ভিসার আবেদন করার পরামর্শ দেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে মনোজ কুমার জানান, ভিসা সেন্টারের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে কি না এবং আবেদনকারীদের কোনো ভোগান্তি হচ্ছে কি না, তা দেখতে তিনি নিয়মিত এখানে আসেন। এ দিনের পরিদর্শনও ছিল তার নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। বিশেষ কোনো সমস্যা তার চোখে পড়েনি। তবে আবেদনকারীদের ভিড় ব্যবস্থাপনা নিয়মিত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘ভিড় ব্যবস্থাপনা সহজ কাজ নয়। এ জন্য সময় সময় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করতে হবে, যাতে সেবা নিতে আসা মানুষকে অযথা ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।’
দালালদের বিষয়ে সতর্ক করে সহকারী হাইকমিশনার বলেন, ‘ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনও বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দালালদের ব্যাপারে সতর্কবার্তা দেয়। ভিসার আবেদন করতে গিয়ে কোনো এজেন্ট বা দালালের ওপর নির্ভর না করে আবেদনকারীদের নিজেদেরই নির্ধারিত স্লট নিতে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে প্রস্তুত করতে হবে।’
মনোজ কুমার বলেন, ‘দালালেরা আবেদনকারীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিতে পারে। তাদের মাধ্যমে আবেদন করতে গেলে কাগজপত্র সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই দালালের কাছে না গিয়ে নিয়ম মেনে নিজ উদ্যোগে আবেদন করাই ভালো। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা ও হয়রানির ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।’
পরিদর্শনের সময় তিনি ভিসা সেন্টারে আসা ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে তাদের অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা জানার চেষ্টা করেন। তার এ পরিদর্শনের উদ্দেশ্য ছিল সেবার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রয়েছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা।
ভিসা সেন্টারে আবেদনকারীদের চাপ সামলাতে নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর ভিড় ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেন মনোজ কুমার। একই সঙ্গে আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে প্রস্তুত রাখা এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণের পরামর্শ দেন তিনি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং দালালনির্ভরতা কমানো গেলে ভিসা প্রত্যাশীদের অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি কমাতে সহায়ক হবে।
কেকে/এআই