আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপনে সব ধরনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ঢাকা জেলা পুলিশ। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে এবার মাঠে সক্রিয় থাকবে বিশেষ ‘কুইক রেসপন্স টিম’। একই সঙ্গে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, মাদক, কিশোর গ্যাং এবং মোটরসাইকেলের বিশৃঙ্খলা রোধে কঠোর অবস্থানে থাকবে প্রশাসন।
ঢাকার ধামরাইয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন।
এসপি শামীমা পারভীন বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে আমাদের কুইক রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর গ্যাং এবং হেলমেট ও কাগজপত্রবিহীন মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কঠোরভাবে কাজ করছে।”
পূজায় যানজট নিরসনে ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত ফোর্সের পাশাপাশি তিন প্লাটুন এপিবিএন (আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, উৎসব নির্বিঘ্ন করতে নিয়মিত পেট্রোলিং ও চেকপোস্ট জোরদার করা হয়েছে।
ধামরাইয়ে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য মো. তমিজ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. তমিজ উদ্দিন বলেন, “বিএনপি সরকার জনগণের সরকার। এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে সনাতন ধর্মের মানুষ নিজেদের সবচেয়ে নিরাপদ মনে করেন। ‘হিন্দু মানেই নৌকা’—এই ধারণা এখন আর খাটে না।”
ধামরাইয়ে পূজার পরিধি বাড়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে এখানে ১২০ থেকে ১৩০টি মন্ডপে পূজা হতো, আর এবার তা বেড়ে ২৩৪টিতে দাঁড়িয়েছে। পূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ বলেন, “আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, যার যার এলাকায় সর্বোচ্চ সহায়তা দিয়ে পূজাকে নির্বিঘ্ন করতে হবে। বিশেষ করে নারী দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকবো।”
২৩৫টি মন্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/সাশ