সারা দেশে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হলেও জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় দায়সারাভাবে দিবসটি পালনের অভিযোগ উঠেছে। মাত্র ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে নামমাত্র র্যালি, সচেতনতামূলক আলোচনা ও অগ্নিকাণ্ড বিষয়ক মহড়ার মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ করা হয়। জনসম্পৃক্ততা না থাকায় স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম খালেক, ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও একটি বিদ্যালয়ের ১২-১৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তবে স্থানীয় সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গের কেউ উপস্থিতি ছিল না বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। সীমিতসংখ্যক অংশগ্রহণকারী নিয়ে সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। সামান্য আপ্যায়নের মধ্য দিয়েই শেষ হয় পুরো আয়োজন।
এ ঘটনায় দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য ও কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে আয়োজনের জন্য বরাদ্দ অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
তাদের মতে, আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসের মূল লক্ষ্য হলো দুর্যোগের ঝুঁকি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি বাড়ানো। কিন্তু মাদারগঞ্জে এ লক্ষ্য অর্জনে উল্লেখযোগ্য কোনো সচেতনতামূলক কার্যক্রম দেখা যায়নি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ দিবসটি অনেকটা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাজ উদ্দিন বলেন, ‘আমি প্রশিক্ষণে আছি। জামালপুর সদরের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাদারগঞ্জে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে রয়েছেন। আজকের কর্মসূচির জন্য পাঁচ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিল।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন, ‘আমি ওই প্রোগ্রামের অতিথি ছিলাম। অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক পিআইও অফিস।’
কেকে/এআই