নীলফামারীতে জেন্ডার সমতা অর্জনও বৈষম্য নিরসনে নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে শহরের একটি রেস্টুরেন্টেে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
জেন্ডার সমতা অর্জন ও বৈষম্য নিরসনে নাগরিক সম্পৃক্ততা-ফেসিং প্রকল্পের অধীনে সংলাপের আয়োজন করে বেসরকারি সংস্থা ডেমক্রেসিওয়াচ।
সংলাপে বক্তারা বলেন, মুঠোফোন আসক্তি আমাদের সন্তানদের ধ্বংস করছে। মুঠোফোন দেখে নানা অপরাধে জড়াচ্ছে নতুন প্রজন্ম। এ জন্য স্কুল, কলেজে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা জরুরি। যৌতুক, বাল্যবিয়ে রোধ ও সকল ধরনের সহিংসতারোধে পরিবার থেকে সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
সংলাপের উদ্বোধন করেন জেলা নাগরিক প্লাটফর্মের আহ্বায়ক তাসনিম ফৌজিয়া ওপেল। উদয়াঙ্কুর সেবা সংস্থার (ইউএসএস) নির্বাহী পরিচালক ভুবন চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে সংলাপের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন ডেমক্রেসিওয়াচের পরিচালক ফিরোজ নুরুন্নবী যুগল।
আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্য দেন নীলফামারী প্রেস ক্লাবের সভাপতি এবিএম মঞ্জুরুল আলম সিয়াম, জেলা সমাজসেবা দপ্তরের উপপরিচালক মাসুম আলী। আরও বক্তব্য দেন সদর উপজেলা নাগরিক প্লাটফর্মের আহ্বায়ক আকতারুল আলম রজু, নীলফামারী প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি শীষ রহমান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষক সত্যেন্দ্র নাথ রায়, নীলফামারী সদর থানার নারী ও শিশু ডেক্স ইনচার্জ শাহনাজ আক্তার, জেলা নাগরিক প্লাটফর্মের সদস্য শফিকুল ইসলাম, কাজী জেবুন্নেছা, রোমানা বেগম, মর্তুজা ইসলাম প্রমুখ।
সংলাপে ২০২৫ সালে জেলার জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, সৈয়দপুর ও নীলফামারী সদর উপজেলায় নারীর প্রতি সহিংসতার চিত্র তুলে ধরেন ডেমক্রেসিওয়াচের মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন সমন্বয়কারী মাহমুদ হাছান তালুকদার।
এ সময় তিনি পুলিশ স্টেশন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদ, স্থানীয় পত্রিকা ও নাগরিক প্লাটফর্ম সূত্রের বরাত দিয়ে উল্লেখ করেন, গত এক বছরে (২০২৫ সালে) এ চার উপজেলায় শারীরিক নির্যাতন ২৬৮টি, ভয়ভীতি ২৩৮টি, গৃহ নির্যাতন ২৮৬টি, জমি-জমা সংক্রান্ত ১০৫টি, আর্থিক সংক্রান্ত ৬৯টি, তালাক-যৌতুক ৩২টি, ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টা ১৫টি, চুরি-ছিনতাই ৩৭টি, অপহরণ ৪১টি, অনলাইন হয়রানী ৪০টি, ইভটিজিং ৬টি ও অন্যান্য ৩১টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। অর্ধদিনের এ সংলাপ পরিচালনা করেন ডেমক্রেসিওয়াচের জেলা সমন্বয়কারী মুজিবুর রহমান।
কেকে/এআই