এক সময় ৩৬টিরও বেশি তেলকলের কর্মচাঞ্চল্যে মুখর ছিল কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার দৌলতগঞ্জ বাজার। সময়ের পরিবর্তন, সরিষার উচ্চমূল্য, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও বাজার প্রতিযোগিতায় ঐতিহ্যবাহী এ শিল্প এখন অস্তিত্বসংকটে। বর্তমানে বাজারটিতে চালু রয়েছে মাত্র ছয়টি তেলকল। সেগুলোও বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
চালু থাকা তেলকলগুলো হলো— বাবুল অয়েল মিল, ন্যাশনাল অয়েল মিল, পুতুল অয়েল মিল, জেআর অয়েল মিল, শাহা অয়েল মিল ও কোহিনুর অয়েল মিল।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ইব্রাহীম বলেন, আগে তেল কলগুলোতে অনেক শ্রমিক কাজ করতেন। এখন কারখানা বন্ধ হওয়ায় কর্মসংস্থান ও আয় কমে গেছে। এতে শ্রমজীবী মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’
মেসার্স বাবুল অয়েল মিলের স্বত্বাধিকারী ছায়ীদুর রহমান বাবু বলেন, ‘উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, সরিষার উচ্চমূল্য, বাজার প্রতিযোগিতা ও খৈল বিক্রিতে মন্দার কারণে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারি সহায়তা না পেলে পূর্বপুরুষের এ ঐতিহ্য ধরে রাখা কঠিন হবে।’
ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা, উৎপাদন ব্যয় কমানো ও বাজারজাতকরণের সুযোগ বাড়ানো গেলে এ শিল্প টিকিয়ে রাখা সম্ভব হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ না নিলে লাকসামের ঐতিহ্যবাহী তেলকলশিল্প পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কেকে/এআই