পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী নভেম্বরের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর আশা করছে সরকার। একই সঙ্গে আগামী বছরের জুনের মধ্যে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটে জ্বালানি লোডিং বা ফুয়েল লোডিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সার্বিক অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। এ সময় কমিটির সভাপতি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পরে মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরগুলোর কর্মকর্তাদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে দাপ্তরিক কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্যে জানানো হয়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের প্রাথমিক ফিজিক্যাল ও ক্রিটিক্যালিটি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার ভিত্তিতে আগামী নভেম্বরের মধ্যে এ প্রকল্প থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া দ্বিতীয় ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের প্রক্রিয়া আগামী বছরের জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
বৈঠকে প্রকল্পটির নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত দিক তুলে ধরে বলা হয়, এটি তৃতীয় প্রজন্মের একটি আধুনিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে বিশেষজ্ঞদের কঠোর তত্ত্বাবধানে এর প্রতিটি ধাপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতেও প্রকল্পটি সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
সভায় আরও জানানো হয়, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্য খাতে নিউক্লিয়ার মেডিসিনের সুবিধা জেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ এবং দেশের প্রথম গবেষণা জাহাজ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
এ ছাড়া ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে উদ্ভাবনী শক্তি বিকাশের লক্ষ্যে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে বিজ্ঞান মেলার আয়োজনের সুপারিশ করা হয়। নতুন উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং উদ্ভাবিত পণ্য বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে কমিটির সদস্য ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ছাড়াও সংসদ সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, মো. আনোয়ারুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী, কে এম বাবর, সানসিলা জেবরিন, সালাহ উদ্দিন, মারদিয়া মমতাজ ও মো. আব্দুল গফুর প্রমুখ অংশ নেন।
এ ছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/ এমএস