নিজে গোল পাননি, তবে ইন্টার মায়ামির দুই গোলেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন লিওনেল মেসি। তার তৈরি করে দেওয়া সুযোগ থেকে গোল করেছেন রদ্রিগো দে পল এবং দীর্ঘ গোলখরা কাটিয়েছেন হের্মান বের্তেরামে। দুই আর্জেন্টাইন ফুটবলারের নৈপুণ্যে নিউইয়র্ক সিটি এফসিকে ২-০ গোলে হারিয়ে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে ইন্টার মায়ামি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নিজেদের মাঠে নিউইয়র্ক সিটির বিপক্ষে প্রথমার্ধেই দুই গোল করে মায়ামি। দ্বিতীয়ার্ধে আর গোল না হলেও শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি ঠেকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন গোলরক্ষক ডেইন সেন্ট ক্লেয়ার।
এই জয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করেছে মায়ামি। নিয়মিত মৌসুমের পাঁচ ম্যাচ বাকি থাকতেই প্লে-অফে জায়গা নিশ্চিত করেছে দলটি।
গত মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো টানা দুই ম্যাচ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন মায়ামির কোচ ক্রিস্তিয়ান ‘কিলি’ গনসালেস। ম্যাচ শেষে দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আর্জেন্টাইন এই কোচ বলেন, ‘আমি খুশি হয়েই মাঠ ছাড়ছি। অবশ্যই উন্নতির অনেক জায়গা আছে। তবে আমরা ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছি।’
গত শনিবার ক্লাবের হয়ে মাঠে ফিরে জোড়া গোল করেছিলেন মেসি। আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে আবেগঘন বিদায়ের পর সেদিনই মায়ামির জার্সিতে প্রথম খেলতে নেমেছিলেন তিনি। নিউইয়র্কের বিপক্ষেও শুরু থেকে আক্রমণে সক্রিয় ছিলেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। নিজে গোল না পেলেও প্রথমার্ধের দুই গোলেই ছিল তাঁর অবদান।
ম্যাচের ২০তম মিনিটে মেসির পাস থেকেই প্রথম গোলের আক্রমণ শুরু হয়। বক্সের ঠিক বাইরে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে রদ্রিগো দে পলকে পাস দেন তিনি। সেখান থেকে ডান দিকে লুইস সুয়ারেসকে বল বাড়ান দে পল।
গোললাইন ঘেঁষে এগিয়ে গিয়ে গোলমুখে নিচু পাস দেন উরুগুয়ের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার সুয়ারেস। ফাঁকায় থাকা বের্তেরামের সামনে তখন শুধু বল জালে পাঠানোর কাজটুকুই বাকি। সহজেই সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মায়ামিকে এগিয়ে নেন মেক্সিকান ফরোয়ার্ড।
এই গোলের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হয় বের্তেরামের। গত মে মাসের পর এমএলএসে প্রথম গোল করলেন তিনি।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আবারও মায়ামির আক্রমণের কেন্দ্রে ছিলেন মেসি। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে মাঝমাঠ পেরিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে যান বের্তেরামে। ডান দিকে মেসিকে পাস দিতে গিয়ে ঠিকমতো বল পাঠাতে পারেননি তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত বল পৌঁছে যায় আর্জেন্টাইন তারকার কাছে।
তিন ডিফেন্ডারকে নিজের দিকে টেনে নিয়ে বাঁ পায়ের বাইরের অংশ দিয়ে দে পলকে বল বাড়ান মেসি। সেই পাস থেকে জোরালো শটে গোলরক্ষকের ডান দিক দিয়ে ওপরের কোণায় বল জালে পাঠান দে পল। দুই গোলের ব্যবধান নিয়ে বিরতিতে যায় মায়ামি।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি মেসি। বক্সের বাইরে থেকে তার বাঁকানো শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটেও মেসি-দে পল জুটির সমন্বয়ে আরেকটি গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল স্বাগতিকরা।
ছোট করে নেওয়া কর্নার থেকে দে পলকে বল বাড়ান মেসি। বক্সের বাইরে থেকে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারের দুর্দান্ত শট দূরের ওপরের কোণা দিয়ে জালে ঢোকার পথেই ছিল। কিন্তু বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে অসাধারণ দক্ষতায় বল পোস্টে লাগিয়ে দেন নিউইয়র্কের গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজ।
ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে গোল হজমের শঙ্কায় পড়ে মায়ামি। বদলি হিসেবে নামা তালেস মানিয়োকে বক্সের ভেতর ফাউল করেন ইয়ান ফ্রে। পেনাল্টি পায় নিউইয়র্ক। তবে নিকোলাস ফের্নান্দেস মেরকাউয়ের শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন সেন্ট ক্লেয়ার। ফলে ব্যবধান কমানোর শেষ সুযোগটিও কাজে লাগাতে পারেনি সফরকারীরা।
টানা দ্বিতীয় ম্যাচে কোনো গোল হজম করল না মায়ামি। এর আগে টানা ১০ ম্যাচে নিজেদের জাল অক্ষত রাখতে পারেনি দলটি।
অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটির দুঃসময় চলছেই। এমএলএসে সবশেষ ১১ ম্যাচের মাত্র একটিতে জিতেছে তারা।
এই জয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সে শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের সঙ্গে ব্যবধান কমাতে না পারলেও দ্বিতীয় স্থানে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে মায়ামি। একই সঙ্গে প্লে-অফে ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়িয়েছে দলটি।
কেকে/ এমএস