ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা চললেও পটুয়াখালীর দশমিনায় তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ শিকারে কিশোরদের ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান এড়াতে জেলেরা ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সী কিশোরদের দিয়ে নদীতে জাল ফেলছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশের প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে তেঁতুলিয়া নদীসহ নির্ধারিত এলাকায় মা ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। এ সময় উপজেলা প্রশাসন, নৌ-পুলিশ ও মৎস্য দপ্তর যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, অভিযান চললেও কিছু অসাধু জেলে কৌশল পরিবর্তন করে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরদের মাছ ধরার কাজে লাগাচ্ছেন।
সরেজমিনে তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী বাঁশবাড়িয়া, গোলখালী, সৈয়দ জাফর, সোবাহান বাজার, আউলিয়াপুর, চরঘূর্ণী ও পাতারচর এলাকায় ৫০ থেকে ৬০টি নৌকায় জাল ফেলে জেলেদের অবস্থান করতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব নৌকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সী কিশোরও রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা চলাকালে উপজেলা প্রশাসন, নৌ-পুলিশ ও মৎস্য দপ্তরের অভিযানে প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক—উভয় শ্রেণির জেলেকে আটক করা হয়েছে। আটক প্রাপ্তবয়স্কদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু জেলে কিশোরদের দিয়ে নদীতে জাল ফেলছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা করা না গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাদের অভিযোগ, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময় কিছু অসাধু জেলে অবৈধভাবে মাছ ধরতে তৎপর হয়ে ওঠেন। প্রাপ্তবয়স্ক জেলেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অপ্রাপ্তবয়স্কদের ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাদের মাছ ধরার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে নদীতে মা ইলিশ নিধন আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
দশমিনা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফেরদাউস বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন, নৌ-পুলিশ ও মৎস্য দপ্তরের যৌথ অভিযানে তেঁতুলিয়া নদীতে অবৈধভাবে মা ইলিশ শিকারের সময় ১১ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
অপ্রাপ্তবয়স্কদের দিয়ে মাছ ধরানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযান চলমান রয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক কাউকে মাছ ধরতে পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ হাসান বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে মাছ ধরতে যাকে পাওয়া যাবে, তাকেই আইনের আওতায় আনা হবে। বুধবার বিভিন্ন স্থান থেকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের দিয়ে অবৈধভাবে তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ শিকারের তথ্য পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে তিনি অভিযানে রয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, বয়স বিবেচনায় প্রাপ্তবয়স্ক বা অপ্রাপ্তবয়স্ক—কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
কেকে/ এমএস